নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাজুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে গত ১৭ বছরে প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলো মিলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন স্বৈরাচার শাসকের পতন ঘটাতে পারেনি। কিন্তু এই দেশে তরুণরা এক মহাকাব্যিক আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেত্রীকে দিল্লি পর্যন্ত তাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তাজুল ইসলাম।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আয়োজনে ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ অংশীদারদের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এছাড়াও ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ব্যারিস্টার তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের তৈরি করা স্বপ্নের পথরেখা ও জুলাই সনদই তাদের কাছে রেডলাইন। কেউ এই রেডলাইন ভঙ্গ করার চেষ্টা করবেন না।
তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনকারী তরুণ ছাত্রনেতাদের যারা ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, তারা ভুলে গেছেন, এই বাচ্চারা ফার্মের মুরগি নয়। তারা আবাবিল পাখির মতো দৌড় করিয়ে প্রতাপশালী স্বৈরশাসককে দিল্লি পর্যন্ত তাড়িয়েছে। যে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আমরা প্রবীণরা এবং বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল মিলে ১৭ বছরে রাস্তার সামনে থেকে দুটি বালির ট্রাকও সরাতে পারিনি, তরুণরা ২০২৪ সালে এক মহাকাব্যিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে তাড়িয়ে বাংলাদেশকে মুক্তি দিয়েছে।’
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দু-একজন নেতার বক্তৃতায় শুনেছি, জুলাই সনদের কথা বললে নাকি তাদের গায়ে আগুন ধরে যায়। কার উসিলায় সিন্নি খেলেন, মোল্লাটাকে চিনলেন না- এমনটা হওয়া উচিত নয়। কারা আপনাদের মুক্ত করলো, কারা আপনাদের ক্ষমতায় নিয়ে এলো, তা ভুলে গেলে চলবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তরুণরা যে স্বপ্নের পথরেখা ও জুলাই সনদ তৈরি করেছে, সেটিই তাদের রেডলাইন। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ফসল ঘরে তুলতে হবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ, অফিস-আদালত ও পেশাগত অঙ্গনে সক্রিয় থাকবেন।’
জুলাই সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি তুলে ধরে ব্যারিস্টার তাজুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের সময় তরুণরা পোস্টারে লিখেছিল, ‘রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চলছে, সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত।’ শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে তরুণরা রাষ্ট্র পরিচালনার যে মানচিত্র এঁকেছে, তা অস্বীকার করা অজ্ঞতার নামান্তর।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদকে প্রচলিত আইন বা সংবিধানের সাধারণ মাপকাঠিতে বিচার করা যাবে না। এটি জনগণের অর্জিত সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। আগামী সংবিধানও এই সনদের ভিত্তিতে রচিত হতে হবে।’
#