সর্বশেষঃ
ঢাকা মেডিকেলের জরুরি সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন দুদক চেয়ারম্যেনের  শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে জামায়াত আমিরের অনুরোধ মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ১২ মুসলিম প্রার্থীর সাফল্য, বিশ্বে নতুন রেকর্ড প্রভাবশালী নেতারা পারেনি,তরুণরা আ’লীগ নেত্রী হাসিনাকে দিল্লিতে তাড়িয়েছে :তাজুল ইসলাম ​ডিএসসিসি জরিপ : নাগরিকরা সচেতন হলেই এডিস মশার লার্ভা শুরুতেই ধ্বংস সম্ভব পুরান ঢাকায় লালবাগে ঘুষ গ্রহণকালে দুদকের ফাঁদে সার্ভেয়ার মনিরুল স্বদেশ অ্যারেনায় রুয়েটিয়ানদের ক্রিকেটর টুর্নামেন্ট ২০২৬’ ১১ ডিসেম্বর তৃতীয় আসরে নামবে-৬ দল, গাজীপুর-সাভারে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ১৭৭ কারখানা বন্ধ ঘোষণা পোশাকশ্রমিকদের বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ওয়ারিয়র’ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন

মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ১২ মুসলিম প্রার্থীর সাফল্য, বিশ্বে নতুন রেকর্ড

নিউজ ডেস্ক

বিশ্বের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন মার্কিন সিনেট নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যালট পেপারে বিশেষ নজর কাড়ছেন একঝাঁক প্রতিশ্রুতিশীল মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী। মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁরা।

এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মূলধারার রাজনীতিতে কেবল মুসলিম জনগোষ্ঠীর সরব উপস্থিতিরই বার্তা মিলছে না, বরং বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁদের অনেকেই দেশটির রাজনীতিতে অনন্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করছেন। এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের গভীর নজরে রয়েছেন এমন ১২ জন প্রভাবশালী মুসলিম প্রার্থী।

এই প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন মিশিগান থেকে সিনেট নির্বাচনে লড়াই করা ড. আবদুল আল-সাইয়েদ। মিশিগানের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করে দেশটির আড়াইশ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে মার্কিন উচ্চকক্ষে প্রবেশের অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। অন্যদিকে নিউজার্সির ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে কংগ্রেসে লড়ছেন অ্যাডাম হামাউই; জয়লাভ করলে নিউজার্সি থেকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম আইনপ্রণেতা হিসেবে ইতিহাস গড়বেন তিনি।ফেডারেল কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভাতেও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন মুসলিম প্রার্থীরা।

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২তম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবের কাওয়াস, যাঁর সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে নিউইয়র্কের রাজ্য আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে শপথ নেওয়ার। মিশিগান স্টেট সিনেটের ২য় আসনে লড়ছেন আব্বাস আলাউইয়েহ; তিনি নির্বাচিত হলে হবেন মিশিগান স্টেট সিনেটের প্রথম আরব মুসলিম সদস্য।

এ ছাড়া কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ২য় আসনে লড়ছেন মরিয়ম খান; যিনি এর আগেই কানেকটিকাট প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন এবং এবার রাজ্য সিনেটের জন্য লড়ছেন।এই নতুন মুখগুলোর পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে ইতোমধ্যে পরিচিত ও প্রভাবশালী হিসেবে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করা প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরাও মাঠে ছিলেন।

মিনেসোটার ৫ম ডিস্ট্রিক্ট থেকে লড়ছেন আলোচিত কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর এবং মিশিগানের ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে রাশিদা তালাইব। এ ছাড়া নিউইয়র্কের ১৩তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার, ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে আয়েশা ওয়াহাব এবং ১২তম ডিস্ট্রিক্টে লতিফা সাইমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা; যেখানে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ৭ম আসনে লড়ছেন রুওয়া রোমান এবং টেক্সাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হ্যারিস কাউন্টির জজ পদে লড়াই করছেন লেটিশিয়া প্লামার।

সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফেডারেল, স্টেট ও কাউন্টি পর্যায়ে দেশজুড়ে অর্ধশতাধিক মুসলিম প্রার্থী ব্যালটে আলো ছড়িয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিকূল স্রোতের মধ্যেও বিভিন্ন নির্বাচিত পদে মুসলিম আমেরিকানদের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও ধারাবাহিক সাফল্য দেশটিতে তাঁদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাব ও নীতি নির্ধারণী ক্ষমতায় শক্তিশালী অংশীদারত্বেরই সুস্পষ্ট প্রমাণ।

আরো সাফল্য দেথা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ২৭ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী নাবিলা সৈয়দ। নির্বাচনে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ডার্বি হিলসকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রার্থী। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, নাবিলা পেয়েছেন ৫৭ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডার্বি হিলস পেয়েছেন ৪৩ শতাংশ ভোট।

গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৯৪ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে জেতার পর সমর্থকদের উদ্দেশে নাবিলা বলেন, ‘আমাদের প্রচার দলের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে পেরেছেন। শুধু ভোট জেতার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং সহমর্মিতা ও সহানুভূতিকে সামনে রেখেই আমরা প্রচার চালিয়েছি।’

ইলিনয়ের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলির এই আসনটিতে নির্বাচন ছিল অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই। ইলিনয়ভিত্তিক সংস্থা রিফর্ম ফর ইলিনয়ের নির্বাহী পরিচালক আলিসা কাপলান জানান, দুই প্রার্থীর প্রচারে মোট ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে।

কাপলানের তথ্য অনুযায়ী, নাবিলা নির্বাচনী প্রচারে অন্তত ৪৭ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছেন। এর বড় অংশ এসেছে তার নিজ দল থেকে। অন্যদিকে ডার্বি হিলস পেয়েছেন ১৮ লাখ ডলার।

নাবিলা ইলিনয় ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ইলিনয় সিনেট ডেমোক্রেটিক ফান্ড থেকে ৩০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান পেয়েছেন। এই তহবিলটি নিয়ন্ত্রণ করেন ইলিনয় সিনেটের প্রেসিডেন্ট ডন হারমন। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পেয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সমালোচনা করে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ‘অসৎ কৌশল’ অবলম্বনের অভিযোগ তুলেছেন ডার্বি হিলস। তার দল ইলিনয় সিনেট রিপাবলিকান ক্যাম্পেইন সর্বশেষ গত আগস্টে তাকে ৩ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিল।

নাবিলার বিরোধিতায় গত মাসে ‘স্ট্রং ইন্ডিপেনডেন্ট লিডারশিপ কমিটি’ নামে একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিও গঠন করা হয়। চরমপন্থি প্রার্থীদের বিরোধিতা করে শক্তিশালী ও স্বাধীন নেতৃত্ব নিশ্চিত করাই তাদের ঘোষিত লক্ষ্য। নর্থ ব্যারিংটনের ভিন্স ফোগলিয়া কমিটিটি গঠন করেন এবং এতে ৫ লাখ ডলার অনুদান দেন। আলাদাভাবে ফোগলিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরাও ডার্বি হিলসের নির্বাচনী প্রচারে ৫ লাখ ডলার দিয়েছেন।

রাজনীতিতে নাবিলার উত্থান

নাবিলা সৈয়দের বয়স ২৭ বছর। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলে ক্যাম্পাস থেকে ২০২১ সালে স্নাতক শেষ করার পর তিনি ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের ৫১তম ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব পালন করছেন। ইলিনয়ের আইনসভায় নির্বাচিত সবচেয়ে কম বয়সি নারী এবং অল্প কয়েকজন মুসলিম সদস্যের একজন ছিলেন নাবিলা।

অন্যদিকে ড্যান ম্যাককনচির পদত্যাগের পর তার আসনে নিয়োগ পেয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সি ডার্বি হিলস। এর আগে ডার্বি একজন সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২১ সালে তিনি ‘মিসেস ইলিনয় আমেরিকা’ খেতাবও জিতেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে জননিরাপত্তা, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা, কর কমানো এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারে নাবিলার বয়স ও অভিজ্ঞতাকে ইস্যু করেছিলেন ডার্বি। প্রচারের শেষ দিকে নাবিলাকে নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ‘অতিরিক্ত চরমপন্থি’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে নিজের নির্বাচনী প্রচারে মুসলিমবিরোধী মনোভাবের সমালোচনা করেন নাবিলা। তিনি বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে গেলে মানুষের কাছ থেকে বিদ্বেষপূর্ণ, ভীতিকর ও হুমকিমূলক কথা শুনতে হচ্ছে। এই এলাকাতেই আমার বেড়ে ওঠা। অথচ আমাকে প্রমাণ করতে হচ্ছে যে আমি এই দেশেই জন্মগ্রহণ করেছি।’ নাবিলা জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা তার প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর আরও নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে দুই প্রার্থীই একমত ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত তথ্য।
#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

নামাজের সময়সূচী

[prayer_time pt="on" sc="on"]

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি এখন লিপসার্ভিসের দলে পরিণত হয়েছে।’ আপনিও কি তাই মনে করেন? Live

  • হ্যাঁ
    25% 3 / 12
  • না
    75% 9 / 12