ডেস্ক নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলেই নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্প্যানিশরা। এর আগে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় ম্যাচের শেষ ভাগে আরও চাপে পড়ে যায়।
খেলার ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে ছিল নিজেদের ছায়া হয়ে। ম্যাচের ১১৬তম মিনিট পর্যন্ত তারা প্রতিপক্ষের গোলে কোনো শটই নিতে পারেনি। ফলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হওয়ার স্বপ্নও অধরাই থেকে যায়। এর মধ্য দিয়েই ৩৯ বছর বয়সে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে শেষ হলো লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়।
অন্যদিকে, স্পেন এই শিরোপার পুরোপুরি যোগ্য দাবিদার। শুধু ফাইনালেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তারা ছিল সবচেয়ে ধারাবাহিক ও আধিপত্য বিস্তারকারী দল। শেষ পর্যন্ত সেরার মুকুট যে সঠিক দলের মাথাতেই উঠেছে, তা নিয়ে তেমন কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। ১১৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটা করেই ফেলেছিলেন ফেরান তোরেস। কিন্তু অফসাইডে বাতিল হয়েছে সেই গোল। এখনো ম্যাচে ফেরার সুযোগ আছে আর্জেন্টিনার। একটা গোলই শুধু প্রয়োজন।
১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের দারুণ এক গোলে এগিয়ে গেল স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্টে গোলটি করেছেন তোরেস। এবার কি আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?
৩৪% — স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের ৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এটি তাদের সর্বনিম্ন বল দখলের হার (৩৪ শতাংশ)। আর ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি বল স্পর্শ করেছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ—যা স্পেনের একতরফা আধিপত্যেরই প্রতিফলন। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের খেলা শেষ হলো। এই অর্ধেও গোল পেল না কোনো দল।
হলুদ কার্ড দেখলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও। ৯৬ মিনিটে স্পেন ভেবেছিল তারা এগিয়ে গেছে, কিন্তু গোলটি সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ, গোলের আগে স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ওপর ফাউল করেছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দেন তিনি।
৯৪ মিনিট পর্যন্ত ১০টি সেভ করেছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অসাধারণ পারফরম্যান্স। স্পেন–আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল হয়নি। স্পেন ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও আদায় করতে পারেনি জয়সূচক গোলটি। অন্য দিকে যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় আর্জেন্টিনা এখন দশ জনের দল।
পাউ কুবারসিকে ফাউল করে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন এনজো ফার্নান্দেজ। মাঠের বাইরে থেকে হলুদ কার্ড দেখেছেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।
অপটা ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করার পর এই প্রথম নয় যে কোনো দল বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে একবারও বল স্পর্শ করতে পারেনি। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯০ সালের ফাইনালে, যখন পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ঢুকতেই পারেনি। এরপর ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একই পরিণতি হয়েছিল ফ্রান্সের। আর এবার ২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে একবারও বল স্পর্শ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
০ — ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রথমার্ধে একটিও শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
দানি ওলমোর পরিবর্তে মাঠে নামলেন শেষ মুহূর্তে গোল করা মিকেল মেরিনো। আর অ্যালেক্স বায়েনার বদলে নামলেন নিকো উইলিয়ামস।
স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালে নেওয়া মাত্র তিনটি শটই ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে, ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একটি শটও নিতে পারেনি।
৬৮ মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে ফেরান তোরেসের দারুণ এক হেড থামিয়ে দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ম্যাচে এই মুহূর্তে পুরোপুরি স্পেনের আধিপত্য। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু গোল পাচ্ছে না।
৬২ মিনিটে স্পেন একসঙ্গে দুজনকে বদলি করল। মাঠে নামলেন ফেরান তোরেস ও পেদ্রি। মাঠ ছাড়লেন মিকেল ওইয়ারসাবাল ও ফাবিয়ান রুইজ। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে গঞ্জালো মন্তিয়েলের বদলে মাঠে নামলেন নাহুয়েল মলিনা।
রদ্রিকে পেছন থেকে ধাক্কা মেরে হলুদ কার্ড দেখলেন বদলি নামা লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বিরতির পর নিকো গঞ্জালেজকে তুলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নামালেন স্কালোনি। ২৭ মিনিট পর শুরু হলো দ্বিতীয়ার্ধের খেলা। যদিও ১৭ মিনিট হওয়ার কথা ছিল এই বিরতি। বিরতির মাঝে মঞ্চে উঠলেন কলম্বিয়ান গায়িকা শাকিরা। বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ডাই, ডাই’ গাইছেন শাকিরা।
বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে খুঁজে পেতে কষ্ট হলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। মাঠজুড়ে দেখা গেল কেবল স্পেনের পাসের প্রদর্শনী। স্পেন পাস দিয়েছে ৩৬৩টি, আর্জেন্টিনা দিয়েছে ২০০টি। আর স্পেন ৩টা শট নিয়ে ২টা লক্ষ্যে রাখলেও আর্জেন্টিনা কোনো শটই এখন পর্যন্ত নিতে পারেনি। স্পেনের দখলে বল ছিল ৬৫ শতাংশ আর আর্জেন্টিনার ৩৫। আর্জেন্টিনা অবশ্য খেলেই দ্বিতীয়ার্ধে। এখন দেখা যাক মেসিরা কীভাবে ফিরে আসে!
ম্যাচের ৪৪ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখা লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে চোটের কারণে তুলে নিলেন স্কালোনি। মাঠে নেমেছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। মিকেল ওয়াইরাজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
ম্যাচের প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক চলছে। এখন পর্যন্ত ম্যাচে স্পেনের দাপটই ছিল বেশি। আক্রমণ ও বলের দখলে এগিয়ে ছিল স্পেনই। তবে আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে চেষ্টা করছে গুছিয়ে নিয়ে আক্রমণে যাওয়ার। তবে বল পেতেই বেগ পেতে হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
স্পেনের আধিপত্য : শুরুর কয়েক মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে স্পেনই এগিয়ে। আর্জেন্টিনা চেষ্টা করছে থিতু হওয়ার। ইয়ামাল সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে এতক্ষণে এগিয়ে থাকত স্পেন।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণে গিয়ে এগিয়া যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। কিন্তু গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন লামিন ইয়ামাল। তাঁকে ঠেকিয়ে দিয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। শুরুতে গাওয়া হয়েছে স্পেনের জাতীয় সংগীত। এখন চলছে আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীত।
মাঠে চলে এসেছে বিশ্বকাপ ট্রফি। বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে এসে সেটি উঁচিয়ে ধরেছেন দুই দেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক আর্জেন্টিনার মারিও কেম্পেস ও স্পেনের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। এরপর অভিনেতা টম ক্রুজ মাঠে দাঁড়িয়ে আবেগঘন একটি বক্তব্য দিলেন।
বিশ্বকাপ ফাইনাল শুরুর আগে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পারফর্ম করছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করবেন অস্কারজয়ী শিল্পী জেনিফার হাডসন। এরপর মঞ্চে আসেন রবি উইলিয়ামস। তাঁর সঙ্গে আছেন নিকোল শেরজিঙ্গার। অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে ফাইনালে নামছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
স্পেনের একাদশ:
উনাই সিমন (গোলরক্ষক), পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, দানি ওলমো, লামিনে ইয়ামাল, আলেক্স বায়েনা, মিকেল ওইয়ারসাবাল।
তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে লিওনেল স্কালোনির দল। বেঞ্চে বসেছেন নাহুয়েল মলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও জুলিয়ানো সিমিওনে। এই তিনজনের জায়গায় দলে ফিরেছেন গঞ্জালো মন্তিয়েল, রদ্রিগো দি পল ও নিকো গঞ্জালেজ।
আর্জেন্টিনার একাদশ :
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, নিকো গঞ্জালেজ, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।
#