সর্বশেষঃ
আ’লীগ ফ্যাসিবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সংসদ পবিত্র মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে ইরানকে আসার আমন্ত্রণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা  বাংলাদেশ ২৫ এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবে  খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার জন্মদিন আজ  সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত ৮ রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট, চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ নিউ মার্কেটে চাঁদাবাজি, ছাত্রদল-যুবদল দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ২৫
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

আ’লীগ ফ্যাসিবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবশেষে এবার আওয়ামী ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী সরকারের আমলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে বেআইনি, অনৈতিক কিংবা দলীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় সংসদ। এ লক্ষ্যে সরকার ও বিরোধী দলের হুইপদের সমন্বয়ে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সভায় ডাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথি, তথ্য ও প্রতিবেদন তলবের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট সংসদ সচিবালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের অফিস কক্ষ পুনর্বিন্যাস, গণপূর্ত অধিদপ্তরের দাপ্তরিক স্থান ব্যবহারের যৌক্তিকতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিষয় পর্যালোচনার জন্য কমিটিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সরকারদলীয় হুইপ জিকে গউছ, রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ও বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান।

কমিটির অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে, বিগত সরকারের সময়ে সংসদ সচিবালয়ে সংঘটিত বেআইনি, অনৈতিক ও দলীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করা এবং তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ দেওয়া।

সংসদ সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ পরস্পরকে ‘ফ্যাসিবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করে হয়রানি বা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে আগের সরকারের সময়ে সুবিধা পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে নতুন করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। বিষয়গুলো স্পিকার, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপদের নজরে আসার পর কমিটির কার্যপরিধিতে কর্মকর্তাদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, কর্মকর্তাদের বিষয়টিও কমিটির কাজের অংশ। যাচাই-বাছাই না করে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে কমিটি নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। সংসদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে সমস্যার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় কোনো ধরনের নাশকতা বা অন্তর্ঘাতের বিষয় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং এখানে সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষ্য, অতীতে কিছু কর্মকর্তা অতিরিক্ত উৎসাহী হয়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছেন। তাদের কেউ নিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা দরকার। তবে কাউকে অযথা হয়রানি বা চাকরিচ্যুত করার উদ্দেশ্য কমিটির নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাচাইয়ের পাশাপাশি সংসদ ভবনের অফিস কক্ষগুলোর বর্তমান ব্যবহারও পর্যালোচনা করবে কমিটি। কোন দপ্তরের কতটুকু জায়গা প্রয়োজন, কোন দপ্তর কোন তলায় থাকবে এবং কোন কক্ষের ব্যবহার কতটা যৌক্তিক—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে স্পিকারের কাছে সুপারিশ দেওয়া হবে।

কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী, সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরকে প্রয়োজন অনুযায়ী নিচতলায় স্থানান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংসদ ভবন এলাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের যেসব দপ্তর ও শাখা অফিস কক্ষ ব্যবহার করছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে ব্যবহারের যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কক্ষ কমানো, একীভূতকরণ, পুনর্বণ্টন ও স্থানান্তরের বিষয়েও সুপারিশ করবে কমিটি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, লুই আই কান-এর নকশায় জাতীয় সংসদ ভবনে প্রায় ৪০০টি কক্ষ থাকার কথা। বর্তমানে বিভিন্ন পরিবর্তন ও কাঠের পার্টিশনের মাধ্যমে ভবনে কক্ষের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংসদের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, কক্ষের এই অপরিকল্পিত বণ্টনের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদীয় কমিটির জন্য প্রয়োজনীয় অফিস বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবার কোনো কোনো দপ্তর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কক্ষ ব্যবহার করছে। অধিবেশন চলাকালে জরুরি সহায়তা দেওয়া কয়েকটি দপ্তরও সংসদ কক্ষের কাছাকাছি পর্যাপ্ত জায়গা পায়নি বলে তারা জানান।

এ ছাড়া সংসদ ভবনের বাইরে সংসদ সচিবালয় এলাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিজস্ব কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও মূল ভবনের ভেতরে তাদের কয়েকটি কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে। এসব কক্ষের ব্যবহারও পর্যালোচনা করবে কমিটি।

আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, লুই আই কানের নকশায় নির্মিত জাতীয় সংসদ ভবনের জায়গাগুলো বর্তমানে অনেকটাই অবিন্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিবেচনা করে বিভিন্ন দপ্তরের জায়গা পুনর্বিন্যাস করা হবে। কোন বিভাগে কতটুকু জায়গা প্রয়োজন এবং কোন দপ্তর কোন তলায় থাকলে কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে—এসব বিষয় যাচাই করে একটি সুপারিশমূলক প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

নামাজের সময়সূচী

[prayer_time pt="on" sc="on"]

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি এখন লিপসার্ভিসের দলে পরিণত হয়েছে।’ আপনিও কি তাই মনে করেন? Live

  • হ্যাঁ
    25% 3 / 12
  • না
    75% 9 / 12