গত ৪৮ ঘণ্টার অতিভারী বর্ষণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় কিছু কিছু এলাকায় পানি জমে মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বৃষ্টিতে ভিজেই নগরীর জলাবদ্ধতা দ্রুত কমাতে মাঠে নেমেছেন। তাদের অক্লান্ত চেষ্টায় অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ডিএনসিসির প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম মিলটন নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন । নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধ পরিস্থিতির খোঁজখবর নেবেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। কোথাও কোনো জরুরি সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট টিমকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করেন।
ঢাকা উত্তর সিটির পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ড্রেন, নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় পানি জমে আছে, সেখানে দ্রুত পানি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াটার পাম্পগুলো সচল রাখা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
অতিবৃষ্টির সময়ে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, নগরায়ণের ফলে পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া, অনেক জায়গায় ড্রেন ও খাল ভরাট বা সংকুচিত হওয়া, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার কারণে পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘদিনের পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ।
ঢাকা উত্তর সিটির দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত খাল ও নালা পরিষ্কার এবং আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তবে আকস্মিক অতিভারী বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন, জলাবদ্ধতামুক্ত ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে কাজ করছি। জনগণের ভোগান্তি কমানোই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
#