নিজস্ব প্রতিবেদন
ফ্যাসিস্টর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে সফল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত জুলাই আন্দোলনভিত্তিক একটি তথ্যচিত্রে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা, ৯ দফা এবং ১ দফার ঘোষণাসহ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি—এমন অভিযোগ তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। এ নিয়ে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে এনসিপির নেতারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। বিশৃঙ্খলার মধ্যে কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিককেও অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, তথ্যচিত্রে আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বাদ পড়েছে বলে উপস্থিত কয়েকজন প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এ সময় অনুষ্ঠান পরিচালকের পক্ষ থেকে বারবার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়নি।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার অভিযোগ করেন, তথ্যচিত্রে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতার ভূমিকা ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তাঁর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঞ্চে ওঠেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি তথ্যচিত্রে কোনো ভুল বা ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের আশ্বাস দিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে দর্শকসারি থেকে স্লোগান অব্যাহত থাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
এরপর প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাইকে এসে উপস্থিতদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেন এবং যাঁদের বক্তব্য রয়েছে, তাঁদের মঞ্চে এসে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান।
পরে মঞ্চে উঠে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করলেও তথ্যচিত্রে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ায় তাঁদের পক্ষে সেখানে অবস্থান করা সম্ভব নয়। তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান ত্যাগের ঘোষণা দেন।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় আয়োজনেও জুলাই আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরা হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ৯ দফা কর্মসূচি এবং ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ঘোষিত ১ দফার বিষয়টি তথ্যচিত্রে অনুপস্থিত ছিল।
ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ভুলত্রুটি থাকতেই পারে এবং তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের সামনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তিনি আরও বলেন, প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে জুলাই আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত শহীদ আবু সাঈদের ছবি অনুপস্থিত ছিল, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও তথ্যচিত্রে ছিল না।
এর আগে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়। তিনি সবাইকে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান।
#