বিশেষ সংবাদদাতা
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও বর্তমান সরকার কোনো সংকটের উত্তরণ ঘটাতে পারেনি বলে অভিযোগ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের। তিনি বলেছেন, সরকার জনগণকে নতুন নতুন সংকটের মুখোমুখি করেছে। জনগণকে আশ্বস্ত করার মতো কোনো কাজও সরকার করতে পারেনি।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পোৎপাদনে ধস নেমেছে এবং হাজার হাজার মানুষ বেকার হচ্ছেন। বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে বাসাবাড়িতে রান্না ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি কারখানাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ‘জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে’ বিক্ষোভ মিছিলের আগে সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান সংগঠনটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, বেকারত্বের কারণে চুরি, ছিনতাই ও রাহাজানিসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, যা নগরজীবনকে আতঙ্কিত করে তুলছে। রাষ্ট্রের এমন গুরুতর সমস্যা সমাধানে সরকারের মধ্যে গা-ছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান যুদ্ধসহ নানা কারণ দেখিয়ে সরকার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সাংবাদিকদের সামনে এসে শুধু দুঃখ প্রকাশ করছেন। দেশকে সংকটে ফেলে শুধু দুঃখ প্রকাশ করলে হবে না। সংকটের সমাধান করতে না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।
আইএবি মহাসচিব আরও বলেন, এত সংকটের মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দলীয় লোকজনকে দুর্নীতি করার আরেকটি সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সংকট উত্তরণে ছয় মাসেও সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা দেখতে না পেয়ে তারা হতাশ হয়েছেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, রাষ্ট্রের সংকট সমাধান হতেই হবে। সংকটের কারণ যা-ই হোক না কেন, রাষ্ট্রের সংকট সমাধান করাই সরকারের কাজ। দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘সমস্যার সমাধান করতে না পারলে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের স্থলে যোগ্যদের দায়িত্ব দিন।’ নগর সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, ‘দেশকে সংকটের মধ্যে ফেলে নিজেরা কোনো সমাধানের পথ বের করেন না। সবকিছুতে তিন বছর আগের পতিত সরকারের দোহাই দিয়ে নিজেদের দোষ এড়িয়ে যাওয়া পরিত্যাগ করুন। জনগণ ফুঁসে উঠলে আপনাদের গদিও কিন্তু ঠিক থাকবে না।’
কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আইএবির সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, নগর সহ-সভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আনোয়ার হোসেন, এম এইচ মোস্তফা, জয়েন্ট সেক্রেটারি ফজলুল হক মৃধা এবং ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ইলিয়াস হাসান প্রমুখ।
#