শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

 ১০ বছর পর এবার  বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল মহাসচিব পদে আলোচনায় যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
   ছবিকে -বাঁ থেকে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন, আমির খসরু,  রিজভী,  সোহেল ও  শাহে আলম

অনেক বছর এবার ক্ষমতাসীন দলী বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে কাউন্সিলের দিন ঘনিয়ে আসছে, ততই বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। প্রশ্ন উঠেছে কে হচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব, দলীয় অন্দরমহল থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

বিএনপির সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ।জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় । দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘসময় সরকারবিরোধী আন্দোলন, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সাংগঠনিক ব্যস্ততায় তা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে বিএনপির প্রথম জাতীয় কাউন্সিল। ফলে শুধু নতুন কমিটি গঠন নয়, সরকার ও দলের মধ্যে নেতৃত্বের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। বিএনটির একাধিক নীতিনির্ধারক, স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলের উচ্চপর্যায়ে নীরব আলোচনা চলছে। তবে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না।

বিএনপির সাংগঠনিক সংস্কৃতি অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখার প্রবণতা, এবারও বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে বিএনপির ভেতরে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে সক্রিয় রাখা, সরকারের সঙ্গে সাংগঠনিক সমন্বয়, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, জোট রাজনীতি এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে মহাসচিবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এবার মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু জ্যেষ্ঠতাই নয়, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় করার সক্ষমতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।

আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্যতম সাংগঠনিক মুখ। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামনের সারিতে রেখেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সরকার ও দলের উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দলীয় সূত্রের মতে, সরকার ও দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও নীতিনির্ধারণী বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং নীতিগত অভিজ্ঞতার কারণে তিনিও আলোচনায় রয়েছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে সক্রিয় ভূমিকা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তার পক্ষে কাজ করছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির নেতা মীর শাহে আলমের নামও দলীয় অভ্যন্তরের আলোচনায় রয়েছে। সরকার ও দলের সমন্বয়, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে তাকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রথমত, সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। সে ক্ষেত্রে সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত এমন কোনো নেতাকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সরকার ও দলের দায়িত্ব আলাদা রাখা। সে ক্ষেত্রে পূর্ণসময়ের সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এবং মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় কোনো নেতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই তার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন— এ নিয়ে দলীয় অন্দরমহলে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর এখন নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন কাউন্সিলে শুধু মহাসচিব পদ নয়; স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

পরবর্তী মহাসচিব নিয়ে কারা আলোচনায় রয়েছেন— এ প্রশ্নে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘কে কে আলোচনায় আছেন, সেটি এখনো জানি না । তবে নিশ্চয়ই যোগ্যতা ও দলের প্রয়োজন বিবেচনায় সিদ্ধান্ত হবে।’

২০১১ সালের ১৬ মার্চ তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। পরে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন। এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি বলেছেন, ‘খুব দ্রুতই দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করছি। তবে এখনো কাউন্সিলের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।’

#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

নামাজের সময়সূচী

[prayer_time pt="on" sc="on"]

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি এখন লিপসার্ভিসের দলে পরিণত হয়েছে।’ আপনিও কি তাই মনে করেন? Live

  • হ্যাঁ
    25% 3 / 12
  • না
    75% 9 / 12