নিজস্ব প্রতিবেদক
মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের রনি শিকদারসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর এই গ্রেফতারের ফলে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার (৩৮) এবং শামীমা ইয়াসমিন লুবনা (৩১) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করে আরও তদন্ত করা হচ্ছে। তবে গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।এর আগে বুধবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রনি শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকৃতী এলাকা থেকে শামীমা তাবাসসুমকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে তদন্ত চলছে।নিহত শাকের হোসেন (৩৯) মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হন শাকের।
প্রথমে তার মৃত্যুকে অসুস্থতাজনিত বলে মনে করে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে গোসলের প্রস্তুতির সময় মাথার পেছনে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের সময় তার মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে শাকের হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে না পারায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন।
গ্রেফতার রনি শিকদারের বড় ভাই রাজীব শিকদার দাবি করেছেন, শাকের হোসেনের সঙ্গে রনির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তার অভিযোগ, ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই রনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।’শাকের হোসেন হত্যার বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
#