শিরোনাম :
এবার মৃত ব্যক্তির ব্যাংকের টাকার পাওনাদার নিধারণী মামলা আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়: শিশু অপরাধীর সাজা সর্বোচ্চ ১০ বছর বনানী কবরস্থানে এইচ টি ইমাম চিরনিদ্রায় শায়িত কারা অধিদফতরের সাবেক ডিআইজির মামলায় ৩১ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণ এইচ টি ইমাম দেশপ্রেমের উন্মেষ ঘটিয়েছেনঃ মেয়র তাপস অযথা মামলা মোকদ্দমায় অর্থ ব্যয় না করে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসুন: এলজিআরডি মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার ভ্যাকসিন নিলেন পি কে হালদারের বান্ধবীকে পুনরায় ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দুদক ডিএনসিসির ও ডিসিসিআই স্মার্ট সিটির কাজ একত্রে করতে চায় ক্রিকেটার নাসিরের স্ত্রীর সাবেক স্বামীর রিট দায়ের ২০ কোটি টাকায় প্রকৌশলী আশরাফুলের দায়মুক্তি, দুদকের ব্যাখ্যা চায় হাইকোর্ট এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক এইচ টি ইমামের ইন্তেকাল অবশেষে নিখোঁজ ব্যবসায়ী আবু সাঈদ উদ্ধার হয়েছে ক্যাসিনোকান্ড ও অর্থপাচার মামলায়, ২৪ মার্চ সম্রাট-আরমানের তদন্ত প্রতিবেদন ভুয়া এনআইডি, ঢাকা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মামলায় ৫জনের রিমান্ড গ্রাহকের স্বর্ণ আত্মসাৎ মামলায়, জামিন পেলেন সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মহি ঢাকা সিটির খালের দুই পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশের ১’শ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ সনদ প্রদান সাংবাদিক কাশেমের ভগ্নীপতি: ব্যবসায়ী আবু সাঈদ নিখোঁজ
শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

রূপপুর প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার দুদকের

দূরবীন নিউজ প্রতিবেদক :
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘বালিশ-কাণ্ডসহ নানা অনিয়ম এবং দুনীতির মামলায় নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই ১৩ আসামিকে গ্রেপ্তাররের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের আগে দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন।

গ্রেপ্তারকৃত ১৩ আসামি হলেন; পাবনা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে রিজার্ভ, সেগুনবাগিচা) মাসুদুল আলম, তিন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তাহাজ্জুদ হোসেন, আহমেদ সাজ্জাদ খান ও মোস্তফা কামাল, উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সাইদ, জাহিদুল হক, শফিকুল ইসলাম ও রওশন আলী, সহকারী প্রকৌশলী সুমন কুমার নন্দী, মোর্শেদ তারেক ও আমিনুল ইসলাম এবং দুই ঠিকাদার সাজিন কনস্ট্রাকশনের মালিক শাহাদাত হোসেন ও মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনের মালিক আসিফ হোসেন।

আরো জানা যায়, দুদকের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিননের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের অনুসন্ধান দল করেছে দুদক। অপর দুই সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান ও উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ।

দুদক কর্মকতারা জানান, পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম ও অন্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রী অস্বাভাবিক দামে কেনা দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হয়।

ওই প্রকল্পের আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় পদে পদে দুর্নীতি হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এতে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরে কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জোনভিত্তিক যে কেনাকাটা হয়ে থাকে, তার বার্ষিক একটি পরিকল্পনা থাকে।

সে ক্ষেত্রে ৩০ কোটি টাকার নিচে কেনাকাটা হলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুমোদন লাগে না, স্থানীয় পর্যায়েই করা যায়। এর সুযোগ নিয়ে ১৬৯ কোটি টাকার কাজ ৬টি প্যাকেজে ভাগ করা হয়। ফলে প্রতিটি কাজের মূল্য ৩০ কোটি টাকার নিচে হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন পড়েনি।

সেখানে প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। কভারসহ কমফোর্টারের (লেপ বা কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত) দাম ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা।

যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। এর বাজারমূল্য অবশ্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

পাঁচটি ২০ তলা ভবনের জন্য এসব কেনাকাটা হয়েছে। প্রতিটি তলায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য কমফোর্টার শুধু বেশি দামে কেনাই হয়নি, কেনার পর দোকান থেকে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে আলাদা ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছে। মাত্র ৩০টি কমফোর্টারের জন্য ৩০ হাজার টাকা ট্রাকভাড়া দেখানো হয়েছে। আর একেকটি কমফোর্টার খাট পর্যন্ত তুলতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ হাজার ১৪৭ টাকা।

কমফোর্টার ঠিকঠাকমতো খাট পর্যন্ত তোলা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য তত্ত্বাবধানকারীর পারিশ্রমিক দেখানো হয়েছে প্রতিটির ক্ষেত্রে ১৪৩ টাকা। ঠিকাদারকে ১০ শতাংশ লাভ ধরে সম্পূরক শুল্কসহ সব মিলিয়ে প্রতিটি কমফোর্টারের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ২২ হাজার ৫৮৭ টাকা।

শুধু কমফোর্টার নয়, চাদরের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে। ৩০টি চাদর আনতে ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ট্রাক ভাড়া করা হয়েছে। আর ভবনের নিচ থেকে খাট পর্যন্ত তুলতে প্রতিটি চাদরের জন্য মজুরি দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে আসবাব কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্তে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৪ জন কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। গত ২৭ জুলাই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

ঘটনা তদন্তে দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গণপূর্তমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দুটি কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে ৩৪ জন কর্মকর্তা বা ব্যক্তি এ ঘটনায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এর মধ্যে ৩০ জন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের। চারজন বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিভাগের।

পূর্তমন্ত্রী শ. .ম রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই টাকা ফেরত নেওয়া হবে। তাঁদের এখনো অনেক বিল পাওনা আছে, সেখান থেকে এই টাকা কেটে রাখা হবে।

প্রতিবেদনে ঠিকাদার সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারটি ভবনে আসবাব ও ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সাজিন এন্টারপ্রাইজ, মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও জিকেপিবিএল-পায়েল-এইচএল কনসোর্টিয়াম। সাজিনের সরবরাহ করা মালামাল সব থেকে নিম্নমানের। সাজিন একাই পেয়েছে ১৪৬ কোটি টাকার তিনটি কাজ।

প্রতিবেদনে আর মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনের সরবরাহ করা মালামাল সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘স্পেসিফিকেশন’ অনুযায়ী সরবরাহ করেনি। তবে জিকেপিবিএল-পায়েল-এইচএল কনসোর্টিয়ামের সরবরাহ করা মালামাল সম্পর্কে বলা হয়েছে ‘অপেক্ষাকৃত ভালো’।

এদের মধ্যে সাজিন এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে পাবনা সদর আসনের সাংসদ গোলাম ফারুক খন্দকারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। প্যাকেজে মোট ১৪৬ কোটি টাকার মধ্যে সাজিন এন্টারপ্রাইজ তিনটি কাজ পেয়েছে।

একটি কাজ পেয়েছে মজিদ সন্স লিমিটেড। সাজিন এন্টারপ্রাইজের তিনটি কাজের মধ্যে একটি ২৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার বিল গত বছরের অক্টোবরে পরিশোধ করা হয়েছে। তহবিলসংকটের কারণে অন্যরা বিল নিতে পারেনি।

তবে এখন মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে বিল দিতে নিষেধ করেছে। জিকেপিবিএল সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া জি কে শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

করোনা আপডেট

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১১৫,১৭১,২৭৯
সুস্থ
৬৫,২২৫,০৫০
মৃত্যু
২,৫৬০,০২১

.