সর্বশেষঃ
রাজধানীতে মুগদা হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণে আহত -৯ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিপিপির আসুন, আমাদের প্রিয় নবীর দেখানো পথে চলি: ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ তাপস স্বাভাবিক জলপ্রবাহে একতরফাভাবে বাঁধা দেওয়ায় প্লাবিত হচ্ছে শ্যামপুর শিল্পাঞ্চলঃ মেয়র শেখ তাপস ডিএনসিসির মেয়র আতিকের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ হাইকোর্টের স্থায়ী ৯ বিচারপতি শপথ নিলেন ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীসহ সারাদেশে একদিনে ১৭২ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হবে: মেয়র আতিকুল ইসলাম ‘শক্তিশালী বিরোধী দল চাই, রাষ্ট্রবিরোধী দল চাই না’ : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

রাজধানীতে ভূয়া সচিব পরিচয়ে প্রতারণা: অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৪

দূরবীণ নিউজ প্রতিবেদক :
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের একাধিক টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভূয়া অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর কাওরান বাজার, মিরপুর এবং গুলশান এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ শানিবার (৯ অক্টোবর)ডিএমপি’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো আব্দুল কাদের চৌধুরী, শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, শহিদুল আলম ও আনিসুর রহমান।

 

ডিএমপি’র বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলিসহ ১টি ওয়াকি-টকি, একটি নতুন প্রাডো জীপ গাড়ী অতিরিক্ত সচিবের অফিশিয়াল আইডি কার্ড, অতিরিক্ত সচিবের ভিজিটিং কার্ড, তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসমূহ, ওয়ার্ক অর্ডারের কাগজপত্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্টিকার, লোন দেয়ার কাগজপত্র, আবেদনপত্র ইত্যাদি, চেক বই, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিজিটিং কার্ড, প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স, টিন ইত্যাদি, বিভিন্ন চুক্তি/ বায়না দলিল (জাহাজ কেনার, ফ্লাট, বাড়ি, জমি ইত্যাদির চুক্তি/ বায়না ইত্যাদি), ড্যাটকো কোম্পানির লিগ্যাল এডভাইজার এর কাগজ, ঋণ দেয়ার/নেয়ার কাগজ, ও চুক্তি পত্র (শমসের বিন মূসার এবং তার স্ত্রীর সহ), ঋণের শর্ত, অ্যাডভান্স ডিপোজিটের শর্তসহ পত্র, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ছবি, (অফিসে ধিষশরব-ঃধষশরব রাখা, পিছনে বডিগার্ড রাখা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে ছবি, টাকার আলমিরা ছবি ইত্যাদি), বঙ্গভবনের ডায়েরি, বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি/ অফিসের বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি, পত্র-পত্রিকার কাটিং (যেমন সিআইপি পদ পাওয়ার, অতিরিক্ত সচিব হওয়ার ইত্যাদি) ভিজিট ফি রেজিস্টার, বিভিন্ন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহানুরের ভূয়া স্বাক্ষর সম্বলিত ওয়ার্ক অর্ডারের বিলম্ব পত্র, প্রতারণামূলক কার্যক্রমের কিছু মেসেজ /চ্যাটিং এবং অডিও ক্লিপ, ভিন্ন তথ্য সম্বলিত পাসপোর্ট এবং আইডি কার্ড, বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল এবং দলিলাদি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ভূয়া অতিরিক্ত সচিব পরিচয় দানকারী আব্দুল কাদের চৌধুরী ঢাকা ট্রেড কর্পোরেশন, জমিদার ট্রেডিং, সামীন এন্টারপ্রাইজ, চৌধুরী গ্রুপ, হিউম্যান ইমপ্রæভমেন্ট ফাউন্ডেশন, সততা প্রোপার্টিজ, ডানা লজিস্টিকস, ডানা মটর্স ইত্যাদি নাম সর্বস্ব কয়েকটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে প্রতারণা কার্যক্রম পরিচালিত করে থাকে।

গ্রেফতারকৃত প্রতারক আব্দুল কাদের হিউম্যান ইমপ্রুভমেন্ট ফাউন্ডেশনের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের” মাধ্যমে বড় রকমের প্রতারণা শুরু করেন । ২০০৪ – ২০০৬ সালে দেশের শত শত মানুষের কাছ থেকে সরকারি অনুদানে বাড়ি এবং খামার তৈরি করার নামে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।

বর্তমানে সে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিশকোটি বা তদুর্ধ্ব টাকার লোন পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণা করে থাকে। এক্ষেত্রে প্রথমেই তার নিয়োগকৃত গ্রেফতারকৃতরাসহ অন্যান্য মার্কেটিং এর লোক বিভিন্ন ঠিকাদার এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট করতে থাকেন। ভুয়া অতিরিক্ত সচিব সেজে সাক্ষাত প্রার্থীদের নিকট হতে ৫০ হাজার হতে ১ লাখ টাকা ভিজিট ফি নিতেন। ব্যাংক হতে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার লোন পাইয়ে দেয়ার নামে প্রসেসিং ফি বাবদ্য ৫ থেকে ১০% টাকা ডাউনপেমেন্ট হিসেবে নিতেন।

সে অন্যান্যদের মধ্যে বিশ^াস জন্মানোর জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত এবং বিভিন্ন সরকারি প্রজেক্ট এর শত শত কোটি টাকার ঠিকাদারি পেয়েছেন বলে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করেন। এ ভূয়া ওয়ার্ক অর্ডারসমূহ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাছে বিক্রি করে থাকেন। তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা জামানত রেখে প্রতারণা করতো।
এছাড়া সে বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকে লোক নিয়োগ দেয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়। গ্রেফতারকৃতরা সততা প্রপার্টিজের নামে নামমাত্র কিছু টাকা বায়নার মাধ্যমে জমি এবং স্থাপনা ক্রয় করার জন্য চুক্তি সম্পাদন করে, যেগুলো দিয়ে পরবর্তীতে মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করে টাকা আদায় করে থাকে।
এই প্রতারণার কাজগুলো করার জন্য গ্রেফতারকৃত অশিক্ষিত কাদের নিজেকে বিভিন্ন মন্ত্রনালয় দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচয় দেন।

এছাড়া প্রতারক আব্দুল কাদের নিজেকে কথিত ধনকুবের প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের প্রতিষ্ঠান ড্যাটকো এর লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে পরিচয় দিতো। সে প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন স্থাপনার কাস্টোডিয়ান হিসাবে টাকা পয়সা কোন ব্যাপার না বলে জাহির করে চাকরিপ্রার্থী, ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারকে প্রতারিত করতো।

গ্রেফতারকৃত আব্দুল কাদের তার দালাল ও মিডিয়া ম্যান-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে প্রলুব্ধ করে বড় অঙ্কের ঋণ প্রদান এবং ওয়ার্ক অর্ডার, সাব-কন্ট্রাক্ট ,ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রসেসিং করত। তাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য সে ভুয়া অতিরিক্ত সচিবের পরিচয়, ভুয়া সিআইপি, দামি দামি গাড়ি, বডিগার্ড, ওয়ারলেস সেট ইত্যাদি ব্যবহার করত।

বিভিন্ন মন্ত্রনালয়, সেনাবাহিনীর কাছ থেকে প্রাপ্ত ভুয়া কার্যাদেশ, শমসের বিন মুসার সাথে তার ছবি এবং বিভিন্ন লেনদেনের ভুয়া কাগজপত্র ব্যাবহার করত। ৩৩ জন সচিবসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির সাথে তার কনসোর্টিয়াম , ব্যবসা আছে ইত্যাদি প্রচার করত।

গ্রেফতারকৃতদের রিরুদ্ধে পল্লবী থানায় অস্ত্র মামলা ও তেজগাঁও থানায় প্রতারণার মামলা রুজু হয়েছে। ইতোপূর্বেও তাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতি, বিভিন্ন প্রতারণা, ব্যাংকে নিয়োগের প্রতারণার ঘটনায় কমপক্ষে অর্ধ ডজন মামলা দায়ের হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

নামাজের সময়সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
  • ৩:৫১ অপরাহ্ণ
  • ৫:৩২ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
  • ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি এখন লিপসার্ভিসের দলে পরিণত হয়েছে।’ আপনিও কি তাই মনে করেন? Live

  • হ্যাঁ
    33% 2 / 6
  • না
    66% 4 / 6