শিরোনাম :
দেশে নির্বাচন, করোনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ : সিইসি নুরুল হুদা ‘রপ্তানি মুখি কৃষি উন্নয়নে সীড এসোসিয়েশন কাজ করে যাচ্ছে’ বিএনপিকে নির্বাচনে বিজয়ের গ্যারান্টি দিলে, এই কমিশন নিরপেক্ষ হবে :কাদের রানী এলিজাবেথের ৯৫তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাত নিয়ে টিআইবি’র প্রতিবেদনে মিথ্যাচার হয়েছে: জাহিদ মালেক বিএনপিতে বিভেদ -গ্রুপিং আছে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি সারাদেশে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে করোনায় সারাবিশ্বে ৩৮ লাখ ২৮২ জনের মৃত্যু ঢাকা, সিলেট ও কুমিল্লায় উপ নির্বাচনে নৌকার ৩ প্রার্থী তুরস্কে ৬ মিনারের বৃহত্তম মসজিদটি পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে একদিনে সারাদেশে করোনায় আরো ৪৩ জনের মৃত্যু করোনা পরিস্থিতিতে ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তাদের ‘লাল তীর গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র’ পরিদর্শন বিএনপির নেতাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না: হানিফ বিএনপি যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখাচ্ছে : ওবায়দুল কাদের মানুষকে আশাবাদী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা : তথ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের আরো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে : সোহেল কেরানীগঞ্জে শিশু কিশোরদের সাথে বিএনপির নেতা প্রকৌশলী ইশরাক নিপুণ রায় চৌধুরীকে অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত বুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

দূরবীন নিউজ প্রতিবেদক:

মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ক্লাস-পরীক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা ৮ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বুয়েট ক্যাম্পাসে আবরারের খুনিদের ফাঁসিসহ ৮ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রথমে তারা বুয়েট শহীদ মিনারে জড়ো হন। পরে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে আবরারের খুনিদের বিচার দাবি করেন। পরে আট দফা দাবির কথা জানান।

শিক্ষার্থীদের আট দফা দবিগুলো হলো- খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে, আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগ এর নামে এবং ভিন্নমত ধমানোর নামে নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে, ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পরও ভিসি কেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে তার জবাব দিতে হবে, আবরার হত্যা মামলার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে, এর আগের ঘটনাগুলোর বিচার করতে হবে, ১১ অক্টোবরের মধ্যে শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

এছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে বুয়েট সব ছাত্রসংগঠনের সাংগঠননিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয় তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে আসলে আন্দোলনকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের জন্য তার কাছে দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘স্যার, যে ঘটনা ঘটলো ক্যাম্পাসে। তাতে আপনি ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেবেন কিনা।’ কিন্তু শিক্ষার্থীরা ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে তোপের মুখে পড়েন তিনি।

পরে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই।’

এসময় শিক্ষার্থীরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। এরপর শিক্ষার্থীরা বুয়েট উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে আসার জন্য ছাত্রলকলাণ পরিচালককে অনুরোধ করেন।

প্রসঙ্গত, রোববার রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে তাকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আবরার ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। বাবা বরকত উল্লাহ এনজিও কর্মী। আর মা রোকেয়া বেগম কিন্ডার গার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার বড়। তার ছোট ভাই ঢাকা কলেজে পড়ে।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় ১৪ জন জড়িত বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায়।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তাকে মারধরের সময় ২০১১ নম্বর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু।

শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, শনিবার বাংলাদেশ-ভারতে হওয়া চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার। পরে সেটি শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্নার নজরে আসে।

তিনি একই হলের শিক্ষার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাউল ইসলাম জিয়ন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকারকে বিষয়টি জানান।

এরপর সিদ্ধান্ত হয় আবরারকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করা হবে। সে অনুযায়ী শনিবার রাত ৮টার দিকে ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে আবরারকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন বুয়েট ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল।

এ সময় তার সঙ্গে উল্লিখিত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরা সবাই ১৬ ও ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে দু’জন রোববার রাত ৮টার দিকে আবরারকে ডেকে ২০১১ নং কক্ষে নিয়ে যান।

সূত্র আরও জানায়, সেখানে নেয়ার পর আবরারের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। তার ফেসবুক মেসেঞ্জার চেক করাসহ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগে থেকেই ওই রুমে ক্রিকেটের স্টাম্প, হকিস্টিক, বাঁশের লাঠি, চাপাতি রাখা ছিল।

বুয়েট শেরেবাংলা হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আবরারকে জেরা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে সমাজসেবাবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশাররফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফা আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পেটানোর পর আবরারের মৃত্যু হলে রাতে তারা সহপাঠীদের ডেকে লাশ নিচতলার সিঁড়ির সামনে রাখে। #


আপনার মতামত লিখুন :

Deprecated: Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/courentn/public_html/wp-includes/functions.php on line 5061

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

করোনা আপডেট

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৮১৫,২৮২
সুস্থ
৭৫৫,৩০২
মৃত্যু
১২,৯১৩
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৭৫,১৪০,২৩৮
সুস্থ
১১৩,৩১৩,৪৩৫
মৃত্যু
৩,৭৮৪,৯২৭

.