শিরোনাম :
মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ফের ৪ দিনের রিমান্ডে মাস্ক না পরায় নিউমার্কেটে মোবাইল কোর্টের জরিমানা আদায মহাখালীতে ডিএনসিসির করোনা হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি দিলেন মেয়র আতিক বেগম জিয়ার শ্বাসকষ্ট বেড়েছে সিসিইউতে স্থানান্তর সারাদেশে করোনায় একদিন আরো ৬৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১,৭৩৯ জন রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাকে হত্যার দায় স্বীকার সজীবের মাওলানা আজিজুল-জালাল-জুবায়ের ফের রিমান্ডে কামরাঙ্গীরচরে জাল টাকা তৈরির মামলায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসহ ৩ জন রিমান্ডে ইলিশ ধরার উৎসব হলো শুরু সারাদেশে করোনায় একদিনে  মৃত্যু ৬৯, নতুন শনাক্ত ১,৩৫৯ ৩ দিনের রিমান্ড শেষে মুফতি ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী কারাগারে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে স্ট্রাকচারের কাজ শেষ : সেতুমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে মমতার তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে বিজেপির ৩ নায়িকা প্রার্থী হেরে যাচ্ছে গণপরিবহন চালুসহ ৩ দফা দাবিতে রাজপথে পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ মাওলানা জুনায়েদ কাসেমী গ্রেফতার হেফাজতের নেতা মাওলানা জাফর আহমদ চট্টগ্রাম কারাগারে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল : ডা: জাহিদ ঈদের আগে গণপরিবহন চালুর হচ্ছে: ওবায়দুল কাদের ভারতে করোনায় মৃত্যু বেড়েই চলছে, হিন্দুদের লাশ পোড়া শেষ হচ্ছে না….
বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে বজ্রপাতে গত ৪ মাসে ৭৯ জনের মৃত্যু, বাড়ছে আতঙ্ক

দূরবীণ নিউজ প্রতিবেদক :
বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়েছে। গত ৪ মাসে বজ্রপাতে ৭৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।এইসব তথ্য জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ টেলিভিশনের স্ক্রল থেকে পাওয়া।

জানা যায় , এবছর গত জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিলে পর্যন্ত বজ্রপাতে সারাদেশে ৭৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ১০ জন নারী, ৩ জন শিশু এবং ৬৮ জনই পুরুষ। নারী ও পুরুষের মধ্যে ৩ জন শিশু এবং ৯ জন কিশোর নিহত হয়েছে। এ চার মাসে বজ্রাঘাতে আহত হয়েছেন ২১ জন। তার মধ্যে ১৫ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী রয়েছে। নারী ও পুরুষের মধ্যে ২ জন কিশোর রয়েছে।

সাধারণত জানুয়ারি মাসে প্রচন্ড- শীত থাকায় এ মাসে বজ্রপাত হয় না। তবে এবার কন কনে শীতের মধ্যেও জানুয়ারি মাসে বজ্রপাতে নিহত হয়েছে ৩ জন। তারা ৩ জনই পুরুষ। ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও মার্চ মাসে ৬ জন এবং এপ্রিল মাসে ৭০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

অন্যদিকে মার্চ মাসে ২ জন নারী এবং ৪ জন পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মার্চ মাসে আহত হয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে ২জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী।

এপ্রিল মাসে মোট নিহত হয়েছেন ৭০ জন। এর মধ্যে নারী ৮ জন এবং ৬২ জনই পুরুষ। নারী ও পুরুষের মধ্যে শিশু ৩ জন, কিশোর ৭ জন এবং কিশোরী ২ জন। এছাড়া এপ্রিল মাসে বজ্রাঘাতে মোট ১৫ জন আহত হয়েছেন। তার মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী।

সবয়েছে বেশি ৪০ জন নিহত হয়েছে কৃষি কাজ করার সময়। নৌকায় বসে মাছ ধরার সময় ২ জন। মাঠ থেকে গরু আনার সময় নিহত হয়েছে ১২ জন। আম কুড়ানোর সময় ১ জন। ঘরে অবস্থানকালীন ৪ জন। পাথর উত্তোলনের সময় ২ জন। মাঠে খেলা করার সময় ১ জন। বাড়ির আঙিনায় খেলা করার সময় ২ জন। ফাকা রাস্তায় চলার সময় ৪ জন। রিকশা চালানোর সময় ১ জন। গাড়িতে থাকাকালীন ২ জন। অন্যদিকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার সময়, নির্মাণ কাজ করার সময় ও হাওরে অবস্থানকালেসহ বিভিন্ন সময় বজ্রপাতে নিহত হয়েছে ৬ জন।

বজ্রপাতে হতাহতের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় চলতি বছরের প্রথম চার মাসে শরীয়তপুরে- ৩ জন, কিশোরগঞ্জে- ২ জন, মুন্সিগঞ্জে-২ জন, রাজবাড়ী-১ জন, মাদারীপুর-৩ জন, ফরিদপুর-৩ জন, কুমিল্লা-১ জন, কক্সবাজার-৫ জন, খাগড়াছড়ি -১ জন, নোয়াখালী-৩ জন, চাদপুর-১ জন, লক্ষীপুর-৪ জন, সিরাজগঞ্জ-১ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ জন, নাটর-১, নওগাঁ-১, খুলনা-১, যশোর-২ জন, নড়াইল-১, চুয়াডাঙ্গা-১, মাগুরা-১, ঝিনাইদহ-১, পটুয়াখালী-৭, পিরোজপুর-২, ভোলা-১, বরগুনা-১, সিলেট-৭, হবিগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৪, দিনাজপুর-১, গাইবান্ধা-৫, ময়মনসিংহ-৩, শেরপুর-১, জামালপুর-১ ও নেত্রকোণায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।
পটুয়াখালী ও সিলেট জেলায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে বিভাগ ওয়ারি বিশ্লেষণ করলে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে- ১৪ জন,
বরিশাল বিভাগে -১১ জন,
চট্টগ্রাম-১৪ জন,
রাজশাহী- ৪ জন,
খুলনা- ৭ জন,
সিলেটে – ১৩ জন,
রংপুর -৬ জন,
ময়মনসিংহ- ৯ জন।
সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জ জেলায়। এ জেলায় গত দুই মাসে বজ্রপাতে নিহত হয়েছে ১৬ জন। এছাড়া, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল জেলায় বজ্রপাতে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এর পর বেশি নিহত হয়েেেছ বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় মাছ ধরতে গিয়ে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে মাঠে গরু আনতে গিয়ে এবং টিন ও খড়ের ঘরে অবস্থান ও ঘুমোনোর সময় বজ্রাঘাতে বেশি মানুষ মারা গেছে। একই সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় অজ্ঞতাবসত লম্বা গাছের নিচে আশ্রয় নেয়ার সময় গাছে বজ্রপাত হওয়ায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

গত দুই মাসে বজ্রপাতে নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জে ১৬ জন, হবিগঞ্জে ৩জন, রাজশাহীতে ১০জন, চাপাইনবাবগঞ্জে ৯জন, পাবনায় ৬ জন, দিনাজপুরে ৭ জন, নীলফামারীতে ৪ জন, জামালপুরে ৪ জন, শেরপুরে ৪ জন, নওগাঁয় ৬ জন, সিরাজগঞ্জে ৫, নারায়ণগঞ্জে ৫ জন, মৌলভীবাজারে ৩ জন, খুলনায় ৪ জন, সাতক্ষীরায় ১১ জন ও টাঙ্গাইলে ৪ জনসহ বিভিন্ন জেলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

বজ্রপাত বৃদ্ধির কারণ:
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন, লম্বা গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া, আকাশে কালো মেঘের পরিমাণ ও মেঘে মেঘে ঘর্ষণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, যত্রতত্র মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসানো এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণেই অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে বজ্রপাত। তাপমাত্রা যত বাড়বে বজ্রপাতও ততো বাড়বে। তাপমাত্রা গড়ে এক ডিগ্রি বেড়ে গেলে বজ্রপাত ১০ শতাংশ বার তার চেয়ে বেশি বজ্রপাত বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইদানীং মেঘে মেঘে ঘর্ষণের ফলে বা ঘন কালো মেঘের ওপরের ও নিচের অংশ দুটি পুল হিসেবে প্রবাহিত হয়। এই কারণে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কালো মেঘের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে বজ্রপাতের পরিমাণ। বিদ্যুতপ্রবাহ মানুষের শরীর দিয়ে প্রবাহিত হয় অনেকটা ইলেকট্রিক শকের মতো। বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে মানুষ যেভাবে দ্রুত শক্ড হয়, ঠিক একইভাবে বজ্রপাতেও মানুষ শক্ড হয়ে মারা যায়।

কারণ মানুষের শরীর বিদ্যুৎ পরিবাহী। এ কারণে মানুষের ওপর বজ্রপাত হয়। যদি কোনো খোলা স্থানে বজ্রপাত হওয়ার মতো কোনো বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ না থাকে আর সেখানে যদি মানুষ থাকে যার উচ্চতা অন্য বিদ্যুৎ পরিবাহীর চেয়ে বেশি তাহলে মানুষের ওপর বজ্রপাত হয়।

সরাসরি মাটিতে সাধারণত বজ্রপাত হয় না। বজ্র বিদ্যুৎ পরিবাহীর ওপর পড়ে। এরপর ওই পরিবাহির মাধ্যমে বজ্রের বিদ্যুৎ মাটির সঙ্গে মিশে যায়। উঁচু গাছ, ভবন, পাহাড়ের শীর্ষে সাধারণত বজ্রপাত হয়। বাসাবাড়িতে লাগানো বজ্রপাত নিরোধক দ-ের ওপরও বজ্রপাত হয়।

বজ্রপাতের সময় করণীয়:

বিশেষ করে যারা ঘরের বাইরে ক্ষেতখামারে কাজ করে তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। যে স্থান বা বস্তু যত উঁচু সে স্থান মেঘের তত সন্নিকটে থাকায় সেখানে বজ্রপাতের সম্ভাবনা তত বেশি। বাড়ির ছাদ কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান করলে দ্রুত সেখান থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। মৌসুমে ঘনকালো (ঝড়মেঘ) মেঘ দেখলেই সাবধান হতে হবে এবং বৃষ্টি শুরুর আগে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেয়া বেশি নিরাপদ। #  সূত্র : নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশর ওয়েভসাইট ।


আপনার মতামত লিখুন :

Deprecated: Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/courentn/public_html/wp-includes/functions.php on line 5061

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

করোনা আপডেট

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৭৬৭,৩৩৮
সুস্থ
৬৯৮,৪৬৫
মৃত্যু
১১,৭৫৫
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৫৪,৩০১,৪০৬
সুস্থ
৯১,০৫১,৪৯৭
মৃত্যু
৩,২২৯,১২৪

.