সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

গাইবান্ধায় হাসপাতাল ভর্তি না করায় ,গেইটে সন্তান প্রসব করেন ওই নারী

দূরবীণ নিউজ ডেস্ক:
ঈদুল ফিতরের দিন সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় হাসপাতালের গেইটে জন্ম দিলেন এক অসহায় মা। ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনা দায়ক। করোনার ভয়ে মানবতা আজ ভুলন্টিত।
জানা যায়, গাইবান্ধার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক প্রসূতি নারীকে ভর্তি না নিয়ে বের করে দেওয়া হয়। পরে নিরুপায় হয়ে ওই হাসপাতালের প্রধান ফটকের পাশেই সন্তান প্রসব করেছেন তিনি । ঈদুল ফিতরের দিন গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রসূতি মা রাশেদা বেগম (৩৫) সাদুল্যাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা গ্রামের দরিদ্র বাদশা মিয়ার স্ত্রী। পরে ওই নারীকে ভর্তি করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নবজাতক সুস্থ আছে।

বাদশা মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, গত সোমবার বিকেলে রাশেদা বেগমের প্রসববেদনা ওঠে। তখন তাঁকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এ সময় ওখানে দায়িত্বরত নার্স বাসনা রানী কোনো পরীক্ষা না করেই তাঁকে গাইবান্ধায় নিয়ে যেতে বলেন। তার পরও তিনি তাঁর স্ত্রীকে ভর্তি করে নিতে বাসনা রানীকে একাধিকবার অনুরোধ করেন।

কিন্তু তিনি এতে কান দেননি। পরে নিরুপায় হয়ে গাইবান্ধায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রিকশাভ্যানে করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় রাশেদা বেগম ব্যথায় চিৎকার করতে থাকেন। ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকেই তিনি একটি ফুটফুটে ছেলেসন্তান প্রসব করেন।

উপজেলার বনগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান শাহীন সরকার বলেন, প্রসবের সময় প্রসূতি মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে উৎসুক জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও করে। পরে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় রাত সাড়ে আটটায় ওই নারীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিঠুন কুমার বর্মণ বলেন, ‘রোগী নারী হওয়ায় আমি তাঁকে দেখিনি। কর্তব্যরত নার্স বাসনা রানী ও আয়া শিল্পী রানী ওই রোগীকে দেখেন। কিন্তু রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় তাঁকে তিনি গাইবান্ধায় স্থানান্তর করার কথা বলেন।’
কর্তব্যরত নার্স বাসনা রানী জানান, ওই প্রসূতির সন্তান প্রসবের জন্য বাড়িতে চেষ্টা করা হয়েছিল। তাই তাঁর অবস্থা খারাপ ছিল। এই জন্য তাঁকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সাদুল্যাপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ফজলুল কাফি বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-কর্মচারীরা এ ধরনের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটিয়ে থাকেন। তাঁরা রোগী (প্রসূতি মা) না দেখেই জেলা শহরের ক্লিনিকগুলোতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম মণ্ডল প্রথম আলোকে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ৬ এপ্রিল গাইবান্ধা সরকারি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে এ রকম একটি ঘটনা ঘটে। ওখানে দায়িত্বরত পরিবারকল্যাণ পরিদর্শক রোগী ভর্তি করে না নেওয়ায় গাইবান্ধা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে শহরের মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ইজিবাইকের ভেতরেই একটি ফুটফুটে নবজাতকের জন্ম হয়েছিল। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

নামাজের সময়সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
  • ৪:৩২ অপরাহ্ণ
  • ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
  • ৮:০০ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি এখন লিপসার্ভিসের দলে পরিণত হয়েছে।’ আপনিও কি তাই মনে করেন? Live

  • হ্যাঁ
    28% 2 / 7
  • না
    71% 5 / 7