শিরোনাম :
সাংবাদিক রকিবুলের মায়ের মৃত্যুতে ডিআরইউ’র শোক করোনায় সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যুতে ডিআরইউ’র শোক করোনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি রফিকের মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় খুনিদের স্থান নেই : প্রধান বিচারপতি খাদ্য সচিব নাজমানারা করোনায় আক্রান্ত মুন্সিগঞ্জে বিস্ফোরণে পৌর মেয়রের স্ত্রীর মৃত্যু তিন সৈন্যের শিরোশ্ছেদ সৌদিতে ১৯ বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিল মিয়ানমার আদালত করোনায় একদিনে ৭৭ জনের মৃত্যু,নতুন শনাক্ত ৫,৩৪৩ জন অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন: আইনমন্ত্রী ১৫ এপ্রিল বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু দুর্নীতিবাজরা দুদক আতঙ্কে, আর দুদক করোনা আতঙ্কে, পরিচালকসহ আক্রান্ত-২৩ টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন ডিএনসিসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন সাঈদ খোকন ৩০ মে, ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মতিঝিল থানার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ব্রিটেনের প্রিন্স ফিলিপ আর নেই একদিনে দেশে করোনায় আরো ৬৩ জনের মৃত্যু,নতুন শনাক্ত ৭,৪৬২ রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের নয়: জন কেরি করোনায় এপর্যন্ত ১,৪৩২ আনসার আক্রান্ত
রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন

ডিএসসিসির জনপ্রিয় কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায়

আবুল কাশেম , দূরবীণ নিউজ :
কাউকে কিছু না বলে , হঠাৎ চিরদিনের জন্য চলে গেলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রিয় কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন তিনি। দলমত নির্বিশেষে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এমনকি সাংবাদিক ও জনবান্ধব কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। বলতে গেলে অত্যন্ত সাদা মনের মানুষ ছিলেন খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম। তার মতো এত আন্তরিক কর্মকর্তা ঢাকা সিটি করপোরেশনে আর আসবে না।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক’ পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর বনানী কবরস্থানে খন্দকার মিল্লাতুল ইসলামের লাশ দাফন করা হয়। অথাৎ এখানেই থাকবেন অনন্তকাল।

ছবিতে _ যোগাযোগমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের  সাথে কমলা কালারের টিসার্ট পরিহিত খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম ।

নগর ভবনে দেখা হলেই, খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম ভাই হাসি মুখে জিজ্ঞাস করতেন খবর কি ? দোওয়া করিয়েন । একটু খেয়াল রাখিয়েন। অনেকে অহেতুক খোঁচা খোঁচি করেন। দুদকের কোনো খবর আছে নাকি। তাকে বলতাম, আল্লাহর উপর ভবসা রাখেন । কোনো সমস্যা নেই । শরীরের প্রতি একটু যত্ন নিয়েন। এর আগে রাত ১১/১২ টায় ও হঠাৎ তার ফোন পেতাম। ফোন করেই বলতেন, কাল অফিসে আসিয়েন কথা আছে। অফিসে গেলে, তার পারিবারিক এবং অফিসের বিভিন্ন বিষয়ে খোলামনে কথা বলতেন। আরো বলতেন ‘ আপনি তো সাংবাদিক না, আপনি তো আমার ভাই’ । আপনার সাথে কথা বললে মনটা ভাল লাগে। কিন্তু এখন তো আর ওইসব কথা কেউ বলবেন না।

গত ২৩ মার্চ নগর ভবনে খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম ভাইয়ের সাথে তার দফতরে সর্বশেষ কথা হয়। তিনি বললেন, কয়দিন আগে আপন বড় ভাইকে চিরদিনের জন্য বিদায় দিয়ে আসলাম। বড় ভাই খুব ভাল মানুষ ছিলেন। এরপর বললেন, তার নিজের শরীরটা চেকআপ করালেন, ডাক্তার জানালেন কোনো সমস্য নেই। তবে একটু সাবধানে চলতে পরামর্শ দিয়েছে।

ডিএসসিসির জনপ্রিয় কর্মকর্তা :
ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে একজন জনপ্রিয় কর্মকর্তা ছিলেন খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম । তার মানবিক আচরণ, মানবিক গুনাবলি, অত্যন্ত পরিশ্রমিক কর্মকর্তার দক্ষতা ও ন্যায় নিষ্ঠাই তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। সিটি করপোরেশনে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

এই জনপ্রিয় কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম ভাইয়ের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি থানা এলাকায়। আশির দশকে ঢাকা কেন্দ্রিয় শিশুপার্কে সুপারভাইজার হিসেব চাকরিতে যোগদান করেন খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম ।

জানা যায়, প্রায় ৩ বছর আগে চাকরির বয়স ৫৯ বছর হবার পর (পিআর এল) সময় টুকুও তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কাটান। এরপর মেয়রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের পরামর্শক হিসেব র্দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। ফলে মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। যত কঠিন কাজের দায়িত্বই তাকে দেওয়া হোউকনা কেনো তিনি সহজেই সম্পন্ন করতেন।

খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম ছিলেন একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বি একজন কর্মকর্তা। তার সাথে কারো তুলনা করা যায় না। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে একই সাথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। যেমন পরিবহণ বিভাগের, ম্যানেজার, প্রধান সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা , পরিবহন বিভাগের জিএম’র দায়িত্বও পালন করেছেন।

চাকরির শেষ পর্যায়ে এসে তিনি অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনরে পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের ব্যক্তিগত অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

সিটি করপোরেশনের বাজেট দেয়ার সময় সংবাদ সম্মেলেনে আপ্যায়নের দায়িত্ব ছিল তার। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেন। সিটি কর্পােরেশন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এখানে সেবা দেয়াই দায়িত্ব এই ব্রত নিয়ে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। ঈদের সময় নামাজ পড়েই নেমে পড়েছেন বর্জ্য পরিস্কার করতে। ঈদের নামাজের জন্য ঢাকায় যত ঈদগাহ থাকবে সেগুলোর তত্বাবধান করতেন।

ছুটির দিনেও কাজ করতে মিল্লাত ভাই। তার এই গুণ দেখে বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকন চাকুরী শেষ হবার পরও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরামর্শক হিসেবে( চুক্তিভিত্তক) নিয়োগ প্রদান করেন। এটি ছিল তার জীবনের বড় পাওয়া।

এবার করোনা মহামারীর মধ্যে দিনরাত কাজ করেছেন। মানুষের কাছে ত্রান নিয়ে ছুটে গেছেন মেয়রের সাথে। গত বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন
করে বাসায় ফিরেই বুকে ‌ব্যথা অনুভব করলে হাসপাতালে নেয়ার পর ইন্তেকাল করেন।

সাবেক অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ২৩ এপ্রিল  নগরভবনে মেয়রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরামর্শকের দায়িত্বে পালন শেষে বাসায় যাবার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুকের ব্যাথায় অনুভব করলে, তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর তিনি মারা যান।

তার মৃত্যূতে ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনসহ ডিএসসিসির কর্মকর্তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সাথে মরহুম খন্দকার মিল্লাতুল ইসলামের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তারা পরিবারের সদস্যদের প্রতিও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
এদিকে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন মরহুমকে বেহেস্ত নসীব করুন এবং পরকালীন শান্তিময় জীবন দান করেন এই দোওয়া করেন ডিএসসিসির কর্মকর্তারা।

ঢাকা সিটি করপোরেশনে একজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বান্ধব কর্মকর্তা ছিলেন, খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম । অনলাইন নিউজ পোটাল ‘দূরবীণ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’ পরিবারের পক্ষ থেকেও মরহুম খন্দকার মিল্লাতুল ইসলামের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। # কাশেম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

করোনা আপডেট

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৬৭৮,৯৩৭
সুস্থ
৫৭২,৩৭৮
মৃত্যু
৯,৬৬১
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৩২,৯২৪,৮৭৩
সুস্থ
৭৫,৬৪৮,৪৩৭
মৃত্যু
২,৮৮৫,০৮২

.