সর্বশেষঃ
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ন

রাজধানীর দক্ষিণ গোড়ানে কলেজ ছাত্রীর লাশ, স্বামী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ানের ভাড়া বাসা থেকে কলেজ ছাত্রী সানজিদার (১৮) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর এই ঘটনায় ওই ছাত্রীর স্বামী সাইফুল ইসলামকে আটক করেছে পুলশি। জানা যায় ,মাত্র আট মাস আগে ভালোবেসে সংসার শুরু করেছিলেন সানজিদা আক্তার মারিয়া। কপালে সুখ সইল না। নতুন জীবনের স্বপ্নের মধ্যেই এই ট্রাজেডি।

সোরত হাল রিপোর্টে গলায় কালো দাগ, ঘটনার সময় স্বামীর অনুপস্থিতি এবং পরিবারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার পর স্বামী সাইফুল ইসলামকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সেই রহস্যের উত্তর মিলবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের পর। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁও থানার দক্ষিণ গোড়ান এলাকায়।

নিহত সানজিদা আক্তার মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাতকান্দা নয়াপাড়া গ্রামে। তিনি মো. মহসিনের মেয়ে। পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় আট মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের পর কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পেশায় ফুড ডেলিভারি রাইডার সাইফুলের সঙ্গে বিয়ের পর রাজধানীর দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন তারা।

নিহতের ভাই চান মিয়া জানান, গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বোনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে সাইফুলকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘বাসায় গিয়ে দেখে আসেন।’ বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দক্ষিণ গোড়ানের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তারা রান্নাঘরসংলগ্ন বারান্দার মেঝেতে মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় বাসায় তার স্বামী ছিলেন না।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, মারিয়ার গলায় স্পষ্ট দাগ দেখা যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে খিলগাঁও থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতেই লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গলায় দাগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আত্মহত্যা, শ্বাসরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, তা জানতে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, পরিবারের বক্তব্য, স্বামীর জবানবন্দি এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে কাউকে দোষী বলা হচ্ছে না। তবে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে নিহতের স্বামীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রয়োজনে আরও ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দম্পতি কয়েক মাস ধরেই ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। বাইরে থেকে তাদের সংসারে বড় কোনো সমস্যা চোখে না পড়লেও, ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকাবাসী বিস্মিত। এ ঘটনায় প্রতিবেশীদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষার ফল এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। যদি হত্যার আলামত পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আত্মহত্যার প্রমাণ মিললে সেই বিষয়টিও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।
#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

নামাজের সময়সূচী

[prayer_time pt="on" sc="on"]

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি এখন লিপসার্ভিসের দলে পরিণত হয়েছে।’ আপনিও কি তাই মনে করেন? Live

  • হ্যাঁ
    25% 3 / 12
  • না
    75% 9 / 12