শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়েছে ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে

ডেস্ক রিপোর্ট
অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়েছে ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক তীব্র অর্থনৈতিক চাপ কমাতে শেষ পর্যন্ত শত্রুদেশ ইরানেরই প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

বর্তমানে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় থাকা এই তেল যাতে ভারত, জাপান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো মিত্র দেশগুলো কিনতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এই ‘অপ্রীতিকর’ সিদ্ধান্ত নিতে তারা বাধ্য হয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতিপূর্বে তাদের কৌশলগত রিজার্ভ থেকে কয়েক কোটি ব্যারেল তেল ছেড়েছে, রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে কিছু বিধিনিষেধ সরিয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে ঠেকছে, যা গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রেও পেট্রোলের দাম হু হু করে বেড়ে প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ ডলারে পৌঁছেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেল বাজারে আনা ছাড়া প্রশাসনের হাতে আর কোনো কার্যকর বিকল্প ছিল না। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, এই তেল ব্যবহার করে দাম কমিয়ে উল্টো তেহরানের কৌশলের বিরুদ্ধেই একে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক দিকটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বেশ অস্বস্তিকর। একসময় বারাক ওবামা প্রশাসনের ইরান চুক্তির কড়া সমালোচনা করা ট্রাম্প এখন নিজেই পরোক্ষভাবে ইরানকে তেল বিক্রিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। যদিও প্রশাসনের দাবি, এই তেল শেষ পর্যন্ত চীন কিনে নিত, কিন্তু এখন মার্কিন মিত্ররা এটি কিনতে পারায় তাদের সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারের মাত্র দেড় দিনের চাহিদার সমান, যা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের তুলনায় খুবই সামান্য। ইউরেশিয়া গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু-এর মতে, এই তেল দ্রুত ফুরিয়ে গেলে ওয়াশিংটনকে হয়তো সাধারণভাবেই ইরানের তেলের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স জানিয়েছেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পর তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই মূল্যবৃদ্ধিকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না এবং একে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট একটি ‘সাময়িক যন্ত্রণা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বর্তমানে প্রশাসনের একটি ছোট নীতি-নির্ধারক দল এই সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং তারা গ্রীষ্মকালীন জ্বালানি ব্যবহারের ওপর কিছু পরিবেশগত নিয়ম শিথিল করার চিন্তাভাবনা করছে। তবে আসল সত্য হলো, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত না করা পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে এই যন্ত্রণাদায়ক প্রভাব চলতেই থাকবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: সিএনএন

#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

নামাজের সময়সূচী

[prayer_time pt="on" sc="on"]

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি এখন লিপসার্ভিসের দলে পরিণত হয়েছে।’ আপনিও কি তাই মনে করেন? Live

  • হ্যাঁ
    25% 3 / 12
  • না
    75% 9 / 12