দূরবীণ নিউজ প্রতিবেদক:
আগামী ১ এপ্রিল বহুল আলোচিত ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতি প্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির দেয়া চার্জশিট গ্রহণের শুনানি হবে আদালত।
প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় করা মামলার আসামি ওই জন।
সিআইডির চার্জশিটভুক্ত অপর ৮ আসামি হলেন- ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী, আসিকুর রহমান ফারহান, খন্দোকার মোহতেসাম হোসেন বাবর, এএইচএম ফুয়াদ, ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড, মুহাম্মদ আলি মিনার ও তারিকুল ইসলাম ওরফে নাসিম।
১ এপ্রিল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ ওই মামলার চার্জশির্ট গ্রহণের বিষয়ে শুনানি করবেন। বুধবার (১৭ মার্চ) সেরেস্তাদার রাশেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়,গত ৮ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদুর রহমান মামলার চার্জশিটটি দেখিলাম বলে স্বাক্ষর করেন। এরপর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা বদলির আদেশ দেন। নিয়মনুযায়ী মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হবে।
গত ৩ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দুই ভাইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস।
গত বছরের ২৬ জুন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে অর্থপাচারের অভিযোগে ঢাকার কাফরুল থানায় বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দুই হাজার কোটি টাকা উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন বরকত ও রুবেল। এছাড়া তারা মাদক কারবারি এবং ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ করেছেন।
এসি ও নন-এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার ও পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন। সেইসঙ্গে দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেন তারা।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম জীবনে দুই ভাই রাজবাড়ীর এক বিএনপি নেতার সঙ্গী ছিলেন। তখন তাদের সম্পদ বলতে কিছুই ছিল না। ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর ওই এলাকায় এক আইনজীবী খুন হন। ওই হত্যা মামলার আসামি ছিলেন বরকত ও রুবেল।/