ডেস্ক নিউজ
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে তার জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। অথচ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফীকুর রহমানের নেতৃত্বে এই জোটের সংসদ সদস্যরা সবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দুটি শপথই নিয়েছে। শপথই পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। অনুষ্ঠানে শপথের জন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি ফরম দেওয়া হয়। এর একটি ছিল সাদা রঙের, যেটি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। অন্যটি ছিল নীল রঙের, যেটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
শপথবাক্যে বলা হয়, ‘আমি (নিজ নাম) সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে সশ্রদ্ধ চিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি তাহা আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব এবং পরিষদ সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দেব না।’
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এনিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।
তাদের কেউ বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী বিএনপি এই শপথ না পড়ে ঠিক করেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা কোনো কারণে ৯০ দিনের মধ্যে না হলে তার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে হতে হবে। কিন্তু এই নির্বাচন সংবিধান মোতাবেক হয়নি। তাই সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ থেকে বিএনপির বিরত থাকা ঠিক হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে বিএনপি দিয়েছে এবং তারেক রহমান বলেছেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে। আমরা মনে করি সেজন্য গণভোট ব্যাপকভাবে জয়যুক্ত হয়েছে। সেই হিসেবে গণভোটের রায়ের আলোকে এই সংবিধান সংস্কার করাটা জরুরি এবং সেক্ষেত্রে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে তাদের ওথ (শপথ) নেওয়াটাও ছিল জরুরি। এখন তারা বলছেন যে সংবিধানে শুধু সংসদ সদস্যদের শপথের কথা বলা আছে কিন্তু আপনার এই সংস্কার পরিষদ হিসেবে নেওয়ার কথা বলা নেই।
তিনি বলেন, যেই সংবিধানের কথা তারা বলছেন সেই সংবিধানে বলা আছে সংসদ ভেঙে গেলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন। তাতে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তারপরে যদি কোনো কারণে ৯০ দিনে না হয় তাহলে আরও ৯০ দিন। সে ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। সেটা তো হয় নাই! তারপরও কি সংবিধান পারমিট করে যে আপনাদের যখন মন চায় তখন নির্বাচন করবেন?
তিনি আরও বলেন, তাহলে গত ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে সেটাও সংবিধান মোতাবেক হয়নি বলে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। যেহেতু সংবিধান মোতাবেক আপনার নির্বাচন হয়নি সুতরাং সংবিধান মোতাবেক এই শপথের কথাটা কেন আসছে? এখন সিদ্ধান্ত দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার এবং তারা যে আইন দিয়েছে সেই মোতাবেক নির্বাচন হয়েছে। অর্থাৎ বলতে পারেন অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তর্বর্তী সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন। আইনটাকে যদি সেই সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে মেনে নেন ঠিক তখনই এই নির্বাচন জাস্টিফাইড হবে। অন্যথায় ওই সংবিধানের কথা বললে এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে সংস্কার কমিশনের শপথ না পড়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গণমাধ্যমকে বলেন, যদি গণতন্ত্র বিশ্বাস করেন, তাহলে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার তো সুযোগ নেই। নাহলে মার্শাল ল’ দিতে হবে অথবা ৫ আগস্টের মতো ওইরকম আপনার রাস্তায় নেমে সব সরকার বসিয়ে, নিজে সরকারে বসাতে হবে ইউনূস সাহেবের মতো লোককে। অনির্বাচিত সরকার ছিল, তারা ভবিষ্যতে আবারও যাতে অনির্বাচিত সরকারে আসতে পারে ওইরকম টেকনিক করার জন্য একটা বীজ বপন করে গেছে বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি জানান, যে সংবিধানে নাই, তারপরও কিছু লোককে ওইভাবে বুঝিয়ে গেলো যে, তোমরা এভাবে নতুন করে সংবিধান করবা। সংবিধানের বাইরে সেভাবে একটা শপথেরও ব্যবস্থা করে দিলো। বিএনপি রাজনীতি করে, এখানে তাদের আইনজীবীও আছে, তারা তো সংবিধান জানে এবং গণতান্ত্রিক দল। তারা তো ওই রকম না যে, গণতন্ত্রের বাইরে কিছু করতে চাইছে এবং বিএনপির নেতারা স্পষ্ট বললেন যে, এগুলো সংবিধানের সংশোধন হওয়ার পরে সবই হবে।
মনজিল মোরসেদ বলেন, যারা সংসদ সদস্য এটা সংবিধান পরিবর্তন করা তাদের ক্ষমতা, কারও ক্ষমতা নাই যে, তুমি এটা জোর করে করো। বাইরের লোকরা এইটা ভুলে গেলো, আর বিদেশি পাসপোর্টওয়ালারা এসে ভুইলা গেলো এটা করতে হবে। এটা তো গণতন্ত্র হলো না। গণতন্ত্র হলো সংবিধানে যেটা পাস করবে, সেটাই আইন। আর বিএনপি স্পষ্টভাবে বলছে যে, তারা জুলাই সনদের অধিকাংশ বিষয়ই একমত পোষণ করতেন এবং সেগুলো তারা অলরেডি বলেছেন যে তারা সংসদে গিয়ে এটা পাস করবেন। অর্থাৎ যারা বলছেন যে এটা জনগণের সঙ্গে বিএনপি একটা বেইমানি করলো, তাদের উত্তরে আমি বলবো জনগণকে বিএনপি একটা আইনের শাসনের পথ দেখালো এবং তারা যে সংবিধান মানার একটা রাজনৈতিক দল, সেটা তারা দেখালো। এটা তো পজিটিভ, এটা খারাপ কিছু নয়। আমি মনে করি যে, তারা যে শপথগ্রহণ করেননি, বরং শপথগ্রহণ করাটা রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হতো।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথমে অভিনন্দন জানাই সংসদ সদস্য হিসেবে যারা শপথ নিয়েছেন তাদের। বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত একটা গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে এবং এমন পরিচ্ছন্ন ভোট যেটা আগে কখনো আমরা প্রত্যাশা করিনি। কোনো ক্যাজুয়ালিটি ছাড়া যারা এমপি হয়েছেন, শপথ নিয়েছেন এই শপথের গুরুত্ব অনেক যদি কেউ মানেন। আর যদি কেউ না মানেন এখানে একটা অর্ডিন্যান্স এসেছে জুলাই সনদের স্বাক্ষর হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সবাই ক্যাম্পেইনও করেছে এই ক্যাম্পেইনের পরে পুরো জাতি তাকিয়েছিল বা আশা করেছিল যে স্মুথলি যা যা ওদের কমেন্ট ছিল সেই অনুসারে শপথটা হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বড় একটি দল যারা সরকারে যাচ্ছে, মেজোরিটি নিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা শপথটা বর্জন করেছে। যারা এখন বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে জামায়াতসহ অন্যান্য দল তারা শপথ নিয়েছে। আমি একজন রাজনৈতিক সচেতন কর্মী হিসেবে মনে করি এই শপথ বর্জনের মাধ্যমে যে মেসেজটা গেলো এটা কনফিউজিং। একটা মেসেজ গেলো যে সংবিধানের কথা বলছেন। আইনের ছাত্র হিসেবে আইন হিসেবে বরাবরই বর্তমানে আমরা যে বন্দোবস্তে আছি সেই সংবিধানের কথা বলে আমি সেই বন্দোবস্তকে বলি মারমেড। আমরা অর্ধেক মাছ অর্ধেক করি এরকম একটা জিনিস দেখি।
তিনি বলেন, এরকমই আমরা কখনো কখনো সংবিধান মানি কখনো কখনো সংবিধানের বাইরে গিয়ে বলি যে ডক্ট্রিন অফ নেসেসিটি। জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ের মাধ্যমে সব অতিক্রম করে ভালো ভোটের মাধ্যমে একটা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছার পরে যদি সংবিধানের কথা বলে, নিজেদের যেই কমিন্টমেন্ট ছিল, নিজেদের যেই প্রত্যাশা ছিল ইভেন সালাহউদ্দিন সাহেব উনিও ইন্ট্রোডিউস করছে বলে দাবি করে এবং এই ‘হ্যাঁ’ ভোটের ক্যাম্পেইনের কথা প্রার্থীদের কথা উনারা দাবি করে। এরপরে শপথ না নিয়ে যে কনফিউশনটা তৈরি হয়েছে এটা আমি মনে করি এই সাধারণ জনগণ ভালোভাবে নেবে না। তারা কমিন্টমেন্ট ভায়োলেট করেছেন।
সংস্কার কমিশনের শপথ না পড়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা বিদ্যমান সংবিধান মেনে শপথগ্রহণ করেছেন। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে তাদের অন্যতম যৌক্তিক পদক্ষেপ। এ কারণে যে কোনো শপথটি সংসদ সদস্যরা পড়বেন তা কিন্তু সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে উল্লেখ আছে। তো বিএনপি গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত হয়েছেন। তারা কিন্তু অপেক্ষা করেছে সংবিধানের এই অনুচ্ছেদটা যেন বাস্তবায়ন হয় সে কারণে। যদি কোনো কারণে আজ স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত থাকতেন, তাহলে কিন্তু এতদিন অপেক্ষা করতে হতো না।
তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে যে বিএনপির এই মুভটি, বিশেষ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তিনি শপথগ্রহণের পূর্বে যে বক্তব্যটা দিয়েছেন, আমার কাছে এটা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে এবং তার বক্তব্যের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয় না যে বিএনপি কখনোই সংবিধান সংস্কার কমিটির সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন না।
কাজল জানান, তিনি (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ) যৌক্তিকভাবে বলেছেন যে, সংবিধানে এগুলো সন্নিবেশিত হওয়ার পরে যখন তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হবে, তখন কে শপথ পড়াবেন, এই সব বিষয়গুলো ঠিকঠাক হওয়ার পরে তারপর তারা হয়তো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আমি বিএনপির অবস্থানকে সংবিধান মোতাবেকই মনে করি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা কখনো বলেনি তারা এটা করবেন না। সুতরাং এটা হচ্ছে একটা পদ্ধতিগত দিক।
মূলত সংবিধানের বিধানকে মানা এবং না মানার বিষয়। বিএনপি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল এবং আমি মনে করি যে যেহেতু তারা সরকার গঠন করছে, তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েই সংবিধান মেনে এগোচ্ছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আইনবিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করা সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির প্রতিনিধিদের শপথ না নেওয়ার ফলে দলটিরও দেশের জন্য নতুন সূচনা যথার্থ হলো না। এই শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি দুভাবে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করলো।
প্রথমত, গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি নাগরিক ‘হ্যাঁ’র পক্ষে রায় দিয়েছে। গণভোটে অন্যান্য প্রশ্নের মধ্যে এটিও ছিল যে জনগণ জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর প্রতি তাদের সম্মতি জ্ঞাপন করছে কি না? যেহেতু ‘হ্যাঁ’ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে, সেহেতু সংবিধান সংস্কার আদেশ জনগণের সম্মতিপ্রাপ্ত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং এর কার্যাবলি সংবিধান সংস্কার আদেশের উল্লেখযোগ্য বিষয়।
এমনকি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়টিও এই আদেশে অন্তর্ভুক্ত আছে। পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণের ফরমও এই আদেশে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। যেহেতু আদেশটি গণভোটে জনগণের সম্মতি লাভ করেছে, তাই এসব বিষয়ও জনগণের সম্মতিপ্রাপ্ত। কাজেই বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়াটা গণভোটে জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করা।
দ্বিতীয়ত, যে কারণে দৃঢ়ভাবে বলা যায় যে বিএনপি জনরায়কে উপেক্ষা করছে, তা হলো নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুস্পষ্টভাবে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন ১২ তারিখ দয়া করে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দেবেন। বিএনপির অন্যান্য প্রতিশ্রুতি যেমন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড ইত্যাদির মতো গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে অবস্থানও দলটির একটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল। তাই এই প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় যে বিএনপি যদি ‘হ্যাঁ’র পক্ষে অবস্থান না নিয়ে ‘না’র পক্ষে অবস্থান নিত, তাহলে নির্বাচনে তারা যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা করতে পারতো কি না? ‘না’র পক্ষে অবস্থান নিলে এমনও হতে পারতো যে বিএনপি নির্বাচনে খারাপ ফল করত। কিন্তু এই শপথ না নেওয়ার ফলে কার্যত গণভোটের রায় ‘না’ হলে যে অবস্থা দাঁড়াত, জাতি এখন সেই অবস্থার মুখোমুখি। কাজেই বিএনপি দুভাবে অর্থাৎ গণভোটের ফলাফল উপেক্ষা করে এবং তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে জনরায়কে উপেক্ষা করেছে।
ফলে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রক্রিয়া চিন্তা করা হয়েছিল, তা একটা প্রাথমিক বাধার সম্মুখীন হলো। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ ছিল সংবিধান সংস্কার আদেশ জারি, দ্বিতীয় ধাপ ছিল গণভোট এবং তৃতীয় ধাপ ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ। প্রথম দুটি ধাপ অনুসরণ করা গেলেও তৃতীয় ধাপে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনপ্রক্রিয়া বাধার সম্মুখীন হলো। তবে এখনো আশা করি বিএনপির প্রতিনিধিরা শপথ নেবেন। এতে বিএনপির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কাও নেই। যেহেতু সংস্কার পরিষদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে।
#