আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার গণমাধ্যমের ওপর খেপেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশ করায় খেপেছেন ট্রোম্প । এসব সংবাদ মাধ্যমকে ‘দেশদ্রোহী’ বলার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ‘জনগণের শত্রু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প।
একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলো এই সামরিক অভিযানে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ভুয়া তথ্য প্রকাশের অভিযোগে গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের হুমকিও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই অভিযানের সংবাদ প্রচার নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ভাবে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
এদিকে গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ মিডিয়া নিয়ন্ত্রক এবং ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রেন্ডেন কার। টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোকে ‘ভুয়া বা বিকৃত সংবাদ’ প্রচার করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ব্রেন্ডেন। তার এমন বেআইনি মন্তব্যে প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
জানা গেছে, ইরানে সামরিক হামলা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম—যেমন এবিসি, সিবিএস, এনবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমসের—এর একাধিক সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ফোনে বারবার কথা বলেছেন ট্রাম্প। এই যুদ্ধটি ‘প্রভাবশালী’ মনে হচ্ছে কি না জানতে চেয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংগুলোতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সমালোচনা করা হচ্ছে। সিএনএন-এর খবরের শিরোনাম নিয়ে খুঁটিনাটি সমালোচনা করছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ।
তবে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ প্রয়োগ করায় ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করছেন অনেক মার্কিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপকে অনেকেই ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ ও স্বৈরাচারী’ শাসকদের আচরণের সঙ্গে তুলনা করছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ডেভিড এক্সিলোর্ডর বলেন, ‘যদি যুদ্ধের খবর ভালো না হয়, তাহলে সাংবাদিকদেরকে আক্রমণ করা হচ্ছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন হুমকি ও চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্য হলো সাংবাদিকদের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখা এবং যুদ্ধের তথ্য নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি করা। জানা গেছে, শুধু বক্তব্য দিয়েই থেমে থাকেনি ট্রাম্প প্রশাসন বরং বাস্তব পদক্ষেপের পথেও এগিয়ে যাচ্ছে।
#