ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর শাহাদাতের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনাটিকে ঘিরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহ এই হত্যাকাণ্ডের কড়া নিন্দা জানিয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ও ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গতকাল রোববার (১ মার্চ) সংগঠনটির বর্তমান মহাসচিব নাঈম কাসেম এক বিশেষ বিবৃতিতে বলেন, তাদের ‘সর্বোচ্চ নেতার রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না’। তিনি স্পষ্ট করে জানান, মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দিতে হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং সময়মতো তার উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে। তার এই বক্তব্যে প্রতিশোধের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নাঈম কাসেম আরও বলেন, “মার্কিন ও ইহুদিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের যে ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে, তা আমরা খুব শিগগিরই পালন করব।” তিনি দাবি করেন, এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে প্রতিরোধ সংগ্রাম আরও জোরদার করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য রুখে দিতে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
এর আগে শনিবার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের ওপর একযোগে সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলাতেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই তেহরানে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে। দেশের বিভিন্ন শহরে শোকমিছিল ও দোয়ার আয়োজন শুরু হয়েছে, আর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানসূচি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহর এই প্রতিশোধ ঘোষণাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে পরিচিত। ফলে তাদের সরাসরি প্রতিশোধের ঘোষণা ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে নতুন সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।\
সব মিলিয়ে, খামেনির শাহাদাত এবং এর জেরে হিজবুল্লাহর কড়া অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে এবং এই উত্তেজনা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয় কি না।
#