সর্বশেষঃ
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ,ঈদের দিনও পেট্রাল পাম্পে লাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে জ্বালানী তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তেল সংকটে পরে বাংলাদেশ। প্রথমে রেশনিং করে পাম্প থেকে তেল দিয়েছে সরকার। পরে রেশনিং তুলে নিলেও তাতে কমেনি পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি। অনেকে ভেবেছিল ঈদের ছুটিতে হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। সেটাও ভুল প্রমাণ হয়েছে ঈদের দিন!

আজ শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন তেল পাম্প ঘুরে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কারও কারও অপেক্ষা করতে হচ্ছে এক-দুই ঘণ্টা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে এখন কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালি। এতে জ্বালানি সংকটে পড়ছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। যার প্রভাবে বাংলাদেশেও চলছে অস্থিরতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর আসাদগেটে অবস্থিত দুটি তেল পাম্পের মধ্যে একটি পাম্প বন্ধ। সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন নামে তেলের পাম্পটি খোলা থাকলেও পাম্পের সামনে ব্যক্তিগত পরিবহন ও মোটরবাইকের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের সামনেও দেখা যায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। এসময় তেল নিতে আসা সবাইকে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে দেখা যায়।

সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন পাম্পে দায়িত্বরত কর্মীরা বলেন, ঈদের আগে যেভাবে পাম্পে চাপ ছিল, ভেবেছিলাম ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়ি চলে গেলে তেল নেওয়ার লোক পাবো না। কিন্তু যে পরিস্থিতি দেখছি তাতে মনে হচ্ছে, সবাই ঈদে পাম্প ফাঁকা থাকলে তেল নেবে- এমন আশায় বসেছিল। নামাজের পর থেকে তেল দিচ্ছি। এখনো লাইন দেখছেন? সারাদিনই এমন চলতে থাকবে।

একই কথা বলেন অন্য তেল পাম্পগুলোর কর্মীরাও। পাম্পে তেলের সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা সোহাগ নামে আরেক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘ঈদের দিন ফাঁকা থাকবে সেই আশায় আগে তেল নেইনি। কিন্তু এখন যা দেখছি তাতে মনে হচ্ছে আগেই পাম্পে ভিড় কম ছিল।’

মোটরসাইকেল চালক হোসেইন আলী বলেন, বেলা ১১টার আগে তেল নিতে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন ১২টার বেশি বাজে। এই এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইন ঠেলে কেবল পাম্পের সামনে আসতে পারছি। এখনো ১৫-২০ মিনিট সময় লাগবে তেল পেতে। মোটরসাইকেল চালক রিমন বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হবো বলে তেল নিতে আসছি। এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর থেকে কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেও তেল-গ্যাসের স্থাপনায় হামলা হয়েছে। যার প্রভাবে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে বিশ্বজুড়ে। কারণ, গোটা বিশ্বের তেলের বড় অংশের সরবরাহ হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। মার্চের প্রথম থেকেই যার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। অনেক পাম্প শুরুতেই বন্ধ করে দেয়। অনেকে তেল দিলেও সরকারের বেঁধে দেওয়া হারে দিয়েছে। পরে সীমা তুলে নিলেও তাতে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। যদিও দেশে আপাতত বড় সংকট নেই তেল নিয়ে।

#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

নামাজের সময়সূচী

[prayer_time pt="on" sc="on"]

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি এখন লিপসার্ভিসের দলে পরিণত হয়েছে।’ আপনিও কি তাই মনে করেন? Live

  • হ্যাঁ
    25% 3 / 12
  • না
    75% 9 / 12