সর্বশেষঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিল স্থানীয়রা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কার্যালয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের তালা-ভাঙচুর গাজার সামরিক প্রধান মোহাম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করল হামাস সংবাদ সম্মেলনে চরিত্র হনন করার অভিযোগ করেন : সাদিক কায়েম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০ সাভারের বৈলাপুর- কেরানীগঞ্জসহ কয়েক হাজার পরিবার ভিটে বাড়িহীন হবার আতঙ্কে নুরকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন ড. মঈন খান নুরের ওপর হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা, এটা চক্রান্তের অংশ :অ্যাটর্নি জেনারেল নুরের চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা
রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন

দুদকের হাতে গোল্ডেন মনিরের অঢেল সম্পদের তথ্য

দূরবীণ নিউজ প্রতিবেদক:

এবার বহুল আলোচিত মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রাজধানীর অভিজাত এলাকায় গোল্ডেন মনিরের নামে থাকা ৪০টি প্লট ও ৬১০ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের তালিকা নিয়ে তদন্ত করছে দুদক।
এছাড়া, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও অনেক সম্পদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা অর্থের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এসব তথ‌্য যাচাই করা হচ্ছে।

গোল্ডেন মনিরের স্ত্রী রওশন আক্তারের নামেও সম্পদের পাহাড় রয়েছে । ৫০০-৬০০ ভরি সোনাসহ বাড়ি-গাড়ি-ফ্ল্যাট কিনেছেন স্ত্রী ও স্বজনদের নামে। এর মধ্যে স্ত্রী রওশন আক্তারের নামে বাড্ডায় আছে পৌনে ৩ কাঠার একটি প্লট, একই মৌজায় ১১ নম্বর রোডে আড়াই কাঠার প্লট, বারিধারা ভাটারা থানা এলাকায় আড়াই কাঠার আরেকটি প্লট, গুলশান-১ এলাকায় ৬ নম্বর রোডে তিন নম্বর বাড়িতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার স্কয়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে বলেন, ‘গোল্ডেন মনিরের অঢেল সম্পদের তথ্য আছে দুদকের হাতে। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে মনিরের নামে ৬১০ কোটি টাকার ও তার স্ত্রীর নামে প্রায় ৬ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই পর্যায়ে আছে। মনির ও তার স্ত্রীকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ ইস্যুর জন্য সুপারিশ করেছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।’

এ বিষয়ে দুদকের পরিচালক প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘মনিরের বিরুদ্ধে একাধিক অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে। যত দ্রুত সম্ভব অনুসন্ধান শেষ করা হবে।’

দুদকের কাছে গোল্ডেন মনিরের নামে রাজধানীর বাড্ডায় রাজউক পুনর্বাসন প্রজেক্টের ২.৫০ কাঠা জমিতে ৬ তলা ভবন, উত্তরার জনপথ এলাকায় ৫ কাঠা জমি (প্লট নং ২৩ ও ২৪), উত্তরার জমজম টাওয়ারে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ, বারিধারার জে ব্লকের প্রগতি সরণিতে ৪ কাঠার প্লট, বাড্ডার বারিধারা জে ব্লকে সাড়ে ৪ কাঠা জমি, একই ব্লকের ১৩ নম্বর রোডে ৪ কাঠা জমি, ১ নম্বর রোডে ৪ কাঠার প্লট, বাড্ডা রাজউক এলাকায় ১১ নম্বর রোডে আড়াই কাঠার প্লট, একই এলাকার ১০ নম্বর রোডে আড়াই কাঠা জমি (১০ নম্বর প্লট), ওই এলাকায় ৪২ নম্বর প্লটে আড়াই কাঠা জমি, ৩২ নম্বর ব্লকে আড়াই কাঠা জমি, বাড্ডার রাজউক এলাকার ১১ নম্বর রোডে ৪৪ নম্বর প্লটে আড়াই কাঠা জমি, একই এলাকায় ৩৭ নম্বর প্লট ও ৪১ নম্বর প্লটে ৫ কাঠা জমি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ৩৩ শতাংশ জমি, বাড্ডা মৌজায় আড়াই কাঠার প্লট, এর পাশেই পৌনে ৩ কাঠার প্লট, একই এলাকার ১০ নম্বর রোডে আড়াই কাঠার প্লট ও পৌনে ৩ কাঠার প্লট, কেরানীগঞ্জে পৌনে ৪ কাঠা প্লট, বাড্ডা মৌজায় আড়াই কাঠার প্লট, উত্তরায় হরিরামপুরে ৩৬ শতাংশ জমি, একই এলাকায় ৫ কাঠার প্লট, উত্তরা এলাকায় নলভোগ মৌজায় ৪ কাঠার প্লট, পূর্বাচল প্রকল্পে ৫ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠার প্লট, বাড্ডায় রাজউক এলাকায় ১০ নম্বর সড়কে আড়াই কাঠার প্লট, কেরানীগঞ্জে মগর চোর মৌজায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমিসহ রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে আত্মীয়-স্বজনের নামে শত শত কোটি টাকার জমি।

অভিযোগ উঠেছে, মনির হোসেন গণপূর্ত ও রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে সরকারি কোটি কোটি টাকার প্লট নিজের নামে করে নিয়েছেন। বিনিময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন।

মনিরের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে মনির বিল্ডার্সের ৬০০ শেয়ার, মেসার্স গালস অটো কারস লিমিটেডের ১৬৫০টি শেয়ার, একটি সেডান কার, মিৎসুবিশি মডেলের একটি জিপ, একটি পিস্তল, বারোটি শটগানসহ অঢেল সম্পদ।

অনুসন্ধানকালে মনির হোসেনের আয়কর নথি, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে দুদক দেখতে পায় যে, প্রকৃতপক্ষে তার বৈধ আয়ের উল্লেখযোগ্য কোনো উৎস নেই। তিনি রাজউকের দালালি ব্যবসায় অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থ দিয়ে এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন।

মনির ৬১০ কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ দখলে রাখায় তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারির সুপারিশ করেছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। এছাড়া, তার স্ত্রী রওশন আক্তারের নামে ৫ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধেও সম্পদ বিবরণীর নোটিশ ইস্যুর সুপারিশ করেছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. শাসছুল আলম।

২০০৯ সালে একবার মনির হোসেন সম্পদের হিসাব দুদকে জমা দেন। তাই দুদক এবার ২০০৯ সালের পরের হিসাবসহ সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলেছে।

২০১২ সালের এপ্রিলে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছিল দুদক। দুদকের তৎকালীন উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ বাদী হয়ে এ মামলা করেন। আদালতে রিটসহ বিভিন্ন জটিলতায় মামলাটির তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। কয়েকজন কর্মকর্তা বদলের পর বর্তমানে দুদকের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন মৃধা এ মামলার তদন্ত করছেন।

২০ নভেম্বর মধ্য রাতে মেরুল বাড্ডার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়।

স্বর্ণ চোরাচালানের সময় ‘গোল্ডেন মনির’ নামে পরিচিতি লাভ করেন মনির হোসেন। ২০০১ সালের পর সোনা চোরাচালান থেকে সরে এসে জমির ব্যবসার দিকে নজর দেন মনির। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


অনুসন্ধান

নামাজের সময়সূচী

[prayer_time pt="on" sc="on"]

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি এখন লিপসার্ভিসের দলে পরিণত হয়েছে।’ আপনিও কি তাই মনে করেন? Live

  • হ্যাঁ
    25% 3 / 12
  • না
    75% 9 / 12